সংবাদপত্রের দিবস ভাবনা ও গণমাধ্যম দিবস

শাহাদাৎ শিপন :

আমাদের জাতীয়,বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতিদিন কোন না কোন দিবস পালিত হয়ে আসছে। ইংরেজিতে সিজন যার বাংলা অর্থ দাড়ায় মৌসুম কিন্তু মৌসুম আবার কোন উৎসবের আরেক নাম যেমন:ফসল তোলার মৌসুম। আর এই মৌসুমের সংঘা দেখি তাহলে দেখা যাবে কোন কিছুর উপযোগি বা স্বাভাবিক যার সাথে সম্পর্ক জুড়ে থাকে। আমাদের জাতীয় জীবনের গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ২১ ফেব্রুয়ারী,২৬ মার্চ,১লা মে, ১৬ ডিসেম্বর ইত্যাদি। যুগের সাথে সাথে আজ আমরা অনেক দিবসের সাথে পরিচিত। কিন্তু জাতীয়,আন্তর্জাতিক,বিশ্ব সব দিবসের সংবাদ আমরা কজন মনে রাখি?

আজ ৩ মে। ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস।গণমাধ্যম কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা,পাশাপাশি সকল গণমাধ্যমকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্য নিয়েই দিবসটি পালিত হয়। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ সভায় ৩ মে কে ওয়ার্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আজ এই দিনে আমাদের দেশ সহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে এই দিবসটি পালিত হয় এই জন্যই যে,প্রতি বছর সাংবাদিকদের উপর নিপিড়ন অত্যাচার স্বাধীনতা বাধা বিপত্তি হামলা হত্যা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা।বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতা পেলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে উঠেনি। গণমাধ্যমের সকলস্তর স্বাধীনভাবে কাজ করলে দেশের গণতন্ত্র হয়ে উঠবে সূদৃর প্রসারী।দেশের গণতন্ত্র বিকাশে সাংবাদিকদের অন্যতম ভূমিকার প্রয়োজন হয়,জনগনের কাছে নেতাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে দেয়,সমাজের প্রকৃত চিত্র জনমানবের কাছে পৌছে দিয়ে অন্যতম সামাজিক ভ’মিকায় অবতীর্ণ হন।এক কথায় সাংবাদিক বা সংবাদ কর্মী জাতির বিবেক। আজ সাংবাদিকরা সচেতন সাহসী বলেই দেশের প্রতিটি মুহূর্তের সংবাদ জনগনের মাঝে পৌছে দিচ্ছে তাৎক্ষনিক। অন্যায়ের বিরূদ্ধে দেশের মানুষকে সাহসী প্রতিবাদী করে তুলছে মুহুর্তের মধ্যে। আজ মানুষের হাতে হাতে সংবাদ চলে আসে শুধুমাত্র এই সাংবাদিকদের একনিষ্টতার কারণে। দিনে দিনে মাধ্যম বেড়ে চলছে সংবাদ সংগ্রহের।
কিন্তু অতিব দু:খের বিষয় হলেও সত্য যে সাংবাদিকরা আজ ঐক্যবদ্ধ নন,প্রতিটি  শহর জেলা থানার সাংবাদিকরা দু তিন ভাগে বিভক্ত,জয়বাংলা,জিন্দাবাদ নারায়ে তাকবীর রবীন্দ্র কি নজরূল সব কিছুই যখন ভাগে পরিনত হয়ে আছে তাতে আমার আপনার বিভক্ততায় কেন এতো প্রশ্ন ? প্রশ্ন করে উত্তর পেতে পারি কি ? হ্যা  সাংবাদিকরা তাদের ভুমিকার জন্য অন্যদের লক্ষ্যে বস্তুতে পরিনত হয়,আমাদের দেশ সমাজ যে সব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় তা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরী করার কারণে অনেককে কারাবরণ,হয়রানি এমনকি প্রাণ নাশের  ঘটনাও ঘটে থাকে। আমাদের দেশ অনেক ছোট রাষ্ট্র হলেও এর  ইতিহাস অনেক প্রাচীণ যা অন্য কোন দেশের ক্ষেত্রে তেমন ইতিহাস নেই। বিশ্ব দরবারে দেশের ভাব মুর্তি  উজ্জল করে তুলতে রাজনীতিবিদরা যখন ব্যর্থ হয় তখন সাংবাদিকদের আরো বলিষ্টভাবে এগিয়ে আসা ছাড়া কোন  উপায় থাকেনা। প্রখ্যাত সাংবাদিক মানিক মিয়া,নাসির উদ্দিন,আবু মনসুর আহমেদ,জহুর হোসেন চৌধুরী,আব্দুস সালাম প্রমুখ সাংবাদিকদের সাথে দেশের বড় বড় রাজনীতিবিদদের  সকল বিষয়ে কথা হতো বিধায় দেশে বিভক্ত ধারার সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু আজ প্রতিটি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মাঝে বিভক্ততা চোখে  পড়ছে। এ কথা অনস্বিকার্যযে,গণমাধ্যমের  স্বাধীনতা না থাকলে জনগনের কল্যাণের পরিবর্তে রাজত্ব কায়েম করবে দুবৃর্ত্তরা। সাংবাদিকরা সঠিক যথার্থতা বজায় না রাখলে সমাজের মাঝে সব কিছুর ই প্রশ্ন  তৈরী হতে থাকবে।

বিভিন্ন তথ্য মতে সারা বিশ্বে বিগত দশ বছরে  প্রায় আটশত সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জানালিষ্ট এর তথ্য মতে,১৯৯০ সাল থেকে সহিংসতার কারনে ২ হাজার ২৯৭ জন মিডিয়া কর্মী নিহত হয়েছে। যা আজও বিভিন্ন ভাবে চলমান। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার অনেক পন্থাই অবলম্বন করে থাকে দুস্কৃতিরা। অনেক সাংবাদিক পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। অনেকে জীবনের ঝুকি নিতে না চেয়ে এ পেশা থেকে দূরে সরে রয়েছে। অনেক সাংবাদিক তাদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। কারাগারে দিন কাটিয়েছেন অনেকে। পদে পদে সাংবাদিকরা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন শুধু মাত্র সাংবাদিকদের একত্ববাদের অভাবে।
নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া  মার্কেজ বলেছেন,গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া সমাজে ভাল কিছু আশা করা যায় না। সমাজের সব ক্ষেত্রে অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য গণমাধ্যমের ভুমিকা অনিবার্য। কিন্তু সাংবাদিকরা  তিন ভাবে নিরাপত্তা দরকার যেমন আইনি,দৈহিক ও অর্থনৈতিক। আর সাংবাদিকদের এই ব্রত নিয়ে কাজ করতে হবে যে,সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সব কিছু করতে প্রস্তুত। বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে ভালো কাজের জন্য জনগনকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা শান্তির দূত হিসাবে  পরিগণিত হতে পারেন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়,এ যাবৎ আমাদের দেশে যতজন সাংবাদিক হত্যা  করা হয়েছে তার সিংহভাগ সুষ্ঠ বিচার হয়নি।
সব শেষে গণমাধ্যমের  স্বাধীনতা এই জন্য জরূরী যে, মুক্ত গণমাধ্যম হলো মানবাধিকার লঙ্ঘনকে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।সকল মুক্ত মানুষের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম জরূরী। গণমাধ্যম আরো বিকশিত হোক এবং গণমাধ্যম কর্মীদের নির্বিঘেœ  পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথটি হোক আরো স্বচ্চ।

সম্প্রতি আই পি এর বিপিএল এ বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্রিকেট খেলোয়ার নিয়ে গঠিত ক্লাবের মধ্যে যারা অংশগ্রহন করেছে তাদের থেকে অনেকের নাম আমাদের কিশোর ছাত্র যুব সমাজ এমনকি প্রাপ্ত বৃদ্ধরাও পর্যন্ত বেশ আগ্রহের সহিত প্রকাশ করতে শোনা যায়। কৌতুহল বশত: টিভি ওয়লা দোকান গুলোতে দর্শক থাকে ভরপুর তেমনি এক দোকানের সামনে পরিচিত এক ছাত্র দর্শককে প্রশ্ন রাখি এত শত খেলোয়ারের নাম বলতে পারছো বেশ,আমাদের দেশের পাঁচজন বিশিষ্ট কবির নাম বলতে পারবে কি? সে আমার প্রশ্ন হেসে উড়িয়ে দিল। তারই এমনতর প্রমান পাওয়া গেছে সম্প্রতি টিভি অনুষ্ঠানে মেধাবী ছাত্র ছাত্রীকে সহজতম প্রশ্ন করা হলে তার উত্তর ভুল কিংবা জানিনা বলে পার পেল। আবার বাংলা বারোমাসের নাম কিংবা ঋতুর নাম জানতে চাওয়া হলে যা উত্তর প্রকাশ পেয়েছে তা কাসির খোড়াক হয়েই আছে,যাকিনা মোবাইলে ডাউনলোড করে এক অপরকে দেখাচ্ছে। অপরদিকে ভারতীয় জি বাংলায় প্রচারিত দাদাগিরি অনুষ্ঠানে সে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে বিজ্ঞান দিবস বলেছেন। আমাদের দেশে এমন টিভি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আর তাতে অনকেই দেশিয় প্রশ্নের অনেক উত্তর ভুল দিতে দেখা গেছে।

আজ আমার লিখাটা শুধুমাত্র দিবসের উপর। আমাদের জীবনের সাথে প্রতিটি দিবস গুলো ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। এই দিবসগুলো প্রতিবছর ঘুরে ফিরে আমাদের সামনে আসে।প্রতিবছর একই স্টোরি লিখায় পরিপুর্ণতা কম থাকে,কেননা সব ঘটনার একটি সাম্প্রদায়িকতা থাকে,আর সেটা তুলে পাঠকের কাছে পৌছে দেওয়ার মাঝে থাকে কৃতিত্ব।

আমাদের জাতিয় জীবনে ২১শে ফেব্রুয়ারী.২৫ মার্চ,,১৪ এপ্রিল,১লা মে,১৫ আগষ্ট,১৬ ডিসেম্বর সহ ইংরেজি নববর্ষ,বিশ্ব ভালোবাসা দিবস,আন্তর্জাতিক নারী,দিবস,মা দিবস,বাবা দিবস,বন্ধু দিবস,পুরবেশ দিবস, বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস,মাদক বিরোধী দিবস,আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস,বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস,স্বেচ্চায় রক্তদান দিবস,বিশ্ব খাদ্য দিবস,জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস,ক্যান্সার দিবস, ডাযাবেটিস দিবস,যক্ষা দিবস,মানবাধিকার দিবস,রাজনৈকিত দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে গুরুত্ব বহন করে।প্রতিটি দিবস আমাদের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়। আর সে লক্ষ্যে নিয়ে কিছু উল্লেখযোগ্য দিবসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মহান শহীদ দিবস,স্বাধীনতা দিবস,শ্রমিক দিবস,বিজয় দিবস সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিন সমুহকে প্রধান্য দিয়ে আসছে অল্প সংখ্যক দৈনিক পত্রিকা যাতে করে বর্তমানে আট কি দশের হাফ দামের পত্রিকা গুলোতে তা প্রধান্য পাচ্ছে না। অপর দিকে মা দিবস,বাবা দিবস,ভালোবাসা দিবস ইত্যাদি ধরনের দিবস সমূহতে বিশেষ ফিচার উপহার হিসাবে থাকে পাঠকের জন্য,আবার কোন পত্রিকায় এক কলামে কোন এক পৃষ্টায় জানিয়ে দেয় আজ এই দিবস আর তাতে কোন রাজনৈতিক  বা সংগঠন কোন কমৃসুচি পালন করবে তার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির বদৌলতে। যদিও বা ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয় তার বেশ জায়গা দখলে থাকে জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন শ্রেণীর বিশিষ্টজনদের ছবি সম্মিলিত শুভেচ্ছা বাণী ,পত্রিকার মালিক গণেরা বিশেষ নিবন্ধন ছাপানোর চেয়ে বিজ্ঞাপন ছাপাত আগ্রহী বেশী কেননা সেখানে অর্থ জড়িয়ে আছে বিধায়। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে কোন কোন পত্রিকায় বিশেষ কোন দিবস ছাড়া অন্যকোন দিবসের কথা এক কলামও লিখছেননা। ক্রোড়পত্রে যে দিবস নিয়ে নিবন্ধন প্রকাশিত হয় তা সংম্লিষ্ট বিভাগের কোন এক বিশেষ ব্যক্তি লিখে থাকেন তাকে কিনা শুধুমাত্র সাফল্য আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কথাই তুলে ধরা হয়। দিবসটির অতীত নিয়ে তেমন কিছু লিখা না থাকার ফলে সে দিনটির সম্পর্কে পাঠকের আগ্রহর মৃত্যু ঘটে।ইচ্ছা করলে যে কোন দিবস নিয়ে গতানুগতিক স্টোরির বাইরে নতুন কিছু উপস্থাপনের মধ্যে দিয়ে পাঠককে যেমন আগ্রহী করে তোলা যায় তেমনি সে বিষয়ে সকললেই গবেষণার মাধ্যমে নতুন ভাবে স্টোরি তৈরী করে লেখক হিসাবে আত্ব প্রকাশ করতে পারে। পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক এই দায়িত্ব পালনের জন্য অবশ্যই ইতিহাস ঘাটতে হয়। আমাদের দেশে বর্তমানে দুই,পাঁচ,আট টাকা হইতে দশ টাকার পত্রিকা রয়েছে। নামের বাহারে যারা এক অপরের বাবাতো ভাইয়ের মতোই। কিন্তু জাতিয় দৈনিক বলতে আমরা দশ টাকার মূল্যের ১৮ থেকে ২০ পৃষ্টা ও সাপ্তাহিক বিশেষ আয়োজন করা পত্রিকাকেই মনে করি থাকি তবে পাঁচ টাকা দামের পত্রিকা গুলো অনেক নতুন পাঠক তৈরী করে দারূনভাবে সফলতা পেয়েছে, যা থেকে কোন কোন পত্রিকা অর্থনৈতিক দৈণ্যদশায় পড়ে বন্ধও হয়ে গেছে। অঞ্চল ভিত্তিক পত্রিকা সমূহতে দিবস সর্ম্পকে তেমন কোন দায়িত্ব থাকেনা বলেই মনে হয়। তবে আশার বাণী নজরূল ,রবীন্দ্র সহ গুণীজনদের জীবনী নিয়ে গুটিকয়েক নির্ধারিত ব্যক্তিদের সরব আয়োজন চোখে পড়ে।

আজ অনেক দিবস শুধুমাত্র সভা সেমিনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। জাতীয় ভাবে অনেক দিবস সাধামাটা করে পালিত হয়ে থাকে অথচ এই দিবস পালনের ক্ষেত্রে শতশত টাকাও বরাদ্ধ থাকে। সেখানে বক্তার আমরা করছি,আমাদের পরিকল্পনা আছে,আগামী অর্থবছরে  এই খাতে নতুন বরাদ্ধ হবে ইত্যাদি। বলা প্রসঙ্গে বলা যায় বিগত বহু বছর “নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলন প্রেস ক্লাব ,শহীদ মিনারে পালিত হয়েছে কিন্তু গতবছর তা চলে গেল বিশাল ঠান্ডা শীতল চারদেয়ালের মাঝে,আমরা যারা রাজপথে রৌদ উপেক্ষা করে র‌্যালী করেছি তা কিসের আশায় ? এখন বক্তৃতা শুনে সরকারী কর্মকর্তারা। ওখানে হয়তো তেমনাটাই শোনা যাবে,বিশাল বরাদ্দ হবে,টি শার্ট, টুপি,পানির বোতল,সচিবালয়ের সামনে একটি নামকা ওয়াস্তে র‌্যালি তারপর মাইকে ঝড় তোলা,কিংবা ভুক্ত ভোগীদের হৃদয় ভেঙ্গে যাওয়া চাপা কান্না ,কিছু অনুদান তারপর দামি রেষ্টুরেন্টের খাবার বক্স ইত্যাদি।দিবস শেষ যেই লাউ সেই কদু। দিন ফুরালে দিবসের নাম গন্ধও আর চোখে পড়েনা।তবে আশা একখানেই আবদ্ধ।এলাকা ভিত্তিক গাছ নেতাদের ব্যানার পেস্টুন গুলো সোভা পায় বছরের পর বছর। রেডিও টেলিভিশনের দিবস নিয়ে তেমন কোন অনুষ্ঠান পালিত হয়না যাও কিছু হচ্ছে তা দর্শক আগ্রহের সহিত শুনতে বা দেখতে চায়না একটি মাত্র কারনে তা হলো বিজ্ঞাপনের দাপটের কারণে। বোঝা মুশকিল কার সৌজন্য কে প্রচার হচ্ছে। খোদ টেলিভিশন দিবসে এমন গণমাধ্যমটি কিভাবে বিশেষ কোন ভুমিকার দায়িত্ব এড়িয়ে যায় বোধগম্য হই না।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির বেশ উন্নতির ফলে জাতীয় ও আঞ্চলিক ভাবে এমনকি থানা ভিত্তিক চার,ছয়টিঅনলাইন নিউজ পোর্টালের ছড়াছড়ি,অথচ নিজ এলাকার সন্মানি ব্যক্তিদের জন্ম মৃত্যু দিবসটি প্রধান্য পায়না,সেখানে জাতীয় কোন বিশিষ্ট জনদের জীবনী পাওয়ার আশা করা বাতুলতা মাত্র।দিনে দিনে আমরা বাঙালী কিংবা বাংলাদেশী লেবাস নিয়ে এগিয়ে চলছি। কোন কোন অনলাইন পত্রিকান্তরে কিছু দিবস নিয়ে লিখা চোখে পড়ে। দিবস সংবাদের দুটো বিষয় বিদ্যমান,যেমন কেন এই দিবস,কিভাবে পালিত হবে,দিবসের মর্মকথা জেনে যথাযথ মর্যাদা পূর্বক পালন করা। অতীত বর্তমানকে সমন্বয় করে স্টোরি তৈরী করাই দিবস সংবাদ। কিন্তু যে কটা পত্রিকা দিবস সংবাদ প্রকাশ করেন তাতে উল্লেখিত বিষয় দুটো সমন্বয় করতে উদাসিনতার পরিচয় দিয়ে থাকেন,কিছু বিষয় বাদ দিলে সংবাদের পরিপূর্ণতা লোপ পায়,কেন কিভাবে এই দুটো বিষয় সংবাদের মেরূদন্ড। তার কোন একটি বাদ পড়লে স্টোরিতে বড় ধরনের দূর্বলতা ধরা পড়ে।দিবস সংবাদের জন্য সোর্স পাওয়া তেমন কঠিন বিষয় নয়,দিবসের সাথে সম্পৃক্ত এমন কোন ব্যক্তির মুখে সেদিনের ইতিহাস শোনা গেলে এর পরিপূর্ণতা উঠে আসে। দিবস সংবাদে তাৎক্ষণিকতা যত বেশী আনা যায় সেটা তত বেশী গ্রহনযোগ্যতা পাবে।সাংবাদিকরা মনে করতে পারে বিষয় গুরুত্ব নিউজের গুরুত্বের উপর নির্ভরশীল ,তা সঠিক নহে। রিপোটারের যোগ্যতা দক্ষতার কারনে অতি সাধারণ বিষয় নিয়ে অসাধারণ নিউজ হতে পারে,মনে করি একটি দিবস আজ পালিত হলো সে থেকে আগামী বছর পর্যন্ত এই দিবসটির হাল হকিকত আগামী দিবসে তুলে আনলে তার পুরপূর্ণতা অনেকাংশ বৃদ্ধি পাবে।হ্যাপী নিউ ইয়ার ,মা বাবা কে ভালোবাসার শুভেচ্ছা সমূহ আজ মোবাইল ম্যাসেজ সেন্ট বক্সে আবদ্ধ।

দিবস স্টোরিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিশাল সুযোগ রয়েছে। আর এ জন্য রিপোর্টারকে অবশ্যই তার যোগ্যতা,দক্ষতা,ভাষাজ্ঞান এবং ব্যতিক্রমী চিন্তা চেতনা দিয়ে স্টোরির একঘেয়েমি কাটিয়ে মৌলিকত্ব আনতে হবে যাতে পাঠক স্টোরি সংবাদ পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।

লেখক:ফ্রিল্যান্সার

সর্বশেষ ও আলোচিত

সোনারগাঁও উপজেলাকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার আহবান

সোনারগাঁও উপজেলাকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার আহবান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলাকে একটি মাদক ও...

পুলিশ সুপারকে  সোনারগাঁওয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন

পুলিশ সুপারকে সোনারগাঁওয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার আনিসুর...

সোনারগাঁওয়ে নৌকার প্রচারণায় ড. সেলিনা আক্তার

সোনারগাঁওয়ে নৌকার প্রচারণায় ড. সেলিনা আক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভার দুলালপুর নিজ বাড়ি থেকে...

চেয়ারম্যান জহিরুল হকের ছোট ভাই আজিজুল হকের ইন্তেকাল

চেয়ারম্যান জহিরুল হকের ছোট ভাই আজিজুল হকের ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা বারদী ইউনিয়ন পরিষদের...

স্কুলছাত্রকে ডাকাত সাজিয়ে পায়ে পুলিশের গুলি

স্কুলছাত্রকে ডাকাত সাজিয়ে পায়ে পুলিশের গুলি

সোনারগাঁও নিউজ ডেস্ক: ইমন, সাকিব ও আবু নাঈম। তিন সহপাঠী। দরিদ্র...

সোনারগাঁওয়ে হিজাব পড়ার দায়ে কলেজ থেকে বের করে দিল শিক্ষার্থীদের

সোনারগাঁওয়ে হিজাব পড়ার দায়ে কলেজ থেকে বের করে দিল শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনারগাঁও নিউজ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কলেজে হিজাব পড়ার অপরাধে কলেজ থেকে...

সোনারগাঁও থানার এসআই আজাদের সহযোগিতায় অনার্স পরীক্ষার্থী রিকশা চালক পিপুলের ভাগ্যের পরিবর্তন

সোনারগাঁও থানার এসআই আজাদের সহযোগিতায় অনার্স পরীক্ষার্থী রিকশা চালক পিপুলের ভাগ্যের পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনারগাঁও নিউজ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পদন্নোতি পাওয়া সেই এসআই আবুল...

সোনারগাঁওয়ে মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৪.৪৫ পেলেন প্রতিবন্ধি রিনা

সোনারগাঁওয়ে মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৪.৪৫ পেলেন প্রতিবন্ধি রিনা

শাহাদাত হোসেন রতন : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মায়ের কোলে চড়ে এসএসসি পরীক্ষা...

সোনারগাঁও আসনে নৌকার নতুন মুখ আনোয়ারুল কবির ভূইয়া

সোনারগাঁও আসনে নৌকার নতুন মুখ আনোয়ারুল কবির ভূইয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ: নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে নৌকার নতুন  মুখ  আনোয়ারুল...

সোনারগাঁওয়ের অপরূপ নিদর্শণ সেই ঠাকুর বাড়িটি

সোনারগাঁওয়ের অপরূপ নিদর্শণ সেই ঠাকুর বাড়িটি

হাজী মোহাম্মদ মহসীন: রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটারের পথ পাড়ি...