শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ
       
শিরোনাম :
সোনারগাঁওয়ে করোনা যোদ্ধাকে নিয়ে অপপ্রচার ও  হত্যার চেষ্টার অভিযোগ, দোষীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন  সোনারগাঁওয়ে বাড়ির মালিক ও তার ছেলেকে পিটিয়ে জখম, ভাড়াটিয়া শ্লীলতাহানি সোনারগাঁওয়ে লোক প্রযুক্তি ও পালকির গান শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত সোনারগাঁওয়ে তিনদিন ব্যাপী বউ মেলা চলছে সোনারগাঁওয়ে যাদুঘরে পক্ষকাল ব্যাপী বৈশাখি মেলা শুরু কাঁচপুরে কলেজ শিক্ষার্থী ছিনতাইকারী কবলে,  মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাই বারদী সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ৬শ’ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সনমান্দিতে আড়াই হাজার শ্রমজীবি মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ  জামপুরে মাতৃভূমি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যাগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ ঈদের দিন পর্যন্ত আমরা সবাই মাঠে কাজ করে যাবো–হাইওয়ে পুলিশ প্রধান

পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রামবাসী পালিয়ে বেড়াচ্ছে,পুরুষ শুন্য গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
দুধঘাটা গ্রাম। একটি শান্ত পরিবেশ ছিল গ্রামটি। শান্ত গ্রাম এখন অশান্ত হয়ে গেছে। নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনার পর পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে গ্রামবাসীরা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নে অবস্থান। এ ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গুলিতে হৃদয় ভূইয়া নামের যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দুটি মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রামের পুরুষ সদস্যরা।  শনিবার সন্ধ্যায় থেকে  বুধবার পর্যন্ত দুধঘাটা গ্রামে প্রায় পুরুষ পূন্য হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এদিকে ঘটনার পঞ্চম দিনেও দুধঘাটা গ্রামের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়নি। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবারও ওই গ্রামে পুলিশের একটি গাড়ি অবস্থান করছিল।

ইতোমধ্যে  মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ বিজয়ী প্রার্থীর দুই কর্মী সমর্থককে গ্রেপ্তার করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করেছেন। আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের কাশেম আলী সরকারের ছেলে শহিদুল ইসলাম সরকার ও ছোট কোরবানপুর এলাকার ফরিদ উদ্দিনের ছেলে হযরত আলী। দুইজন গ্রেফতারের পর আতংক আরো বেড়ে গেছে।
এদিকে নির্বাচনী সহিংসতায় হৃদয় ভূইয়া নামের যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায়  রোববার বিকেলে নিহতের বড় ভাই ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় নির্বাচনে সদ্য বিজয়ী ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ সরকারসহ ২১ জনকে আসামী করা হয়। পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত আরো অনেককে। এছাড়াও ফলাফল ঘোষণার পর পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আহম্মেদ বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

বুধবার সকালে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে যায়, গ্রেপ্তার আতংকে ওই এলাকায় প্রায় পুরুষ শুন্য। দুই মামলায় দুই শতাধিক আসামী করে মামলা দেওয়ার কারনে ওই গ্রামের পুরুষরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। পুলিশের দায়ের করা মামলায় আসামী অজ্ঞাত থাকার কারনে যে কেউ গ্রেপ্তার হতে পারে এমন আশংঙ্কায় বাড়ি ছাড়া গ্রামের পুরুষ মানুষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের দুজন ষাটোর্ধ্ব প্রত্যক্ষদর্শী ব্যাক্তি জানান, নির্বাচনে ফলাফল শেষে মিছিল নিয়ে আজিজ সরকারের লোকজন বাড়ি চলে যায়। ফলাফল ঘোষনার প্রায় ১০-১২ মিনিট পর নির্বাচনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা ব্যালটের বস্তা নিয়ে উপজেলায় যাওয়ার জন্য রওনা হন। নির্বাচন কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ গজ যাওয়ার পর পরাজিত প্রার্থীর কয়েকজন লোক ওই বস্তাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বাঁশি বাজিয়ে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। অনেকেই এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি ছোড়ে। পুলিশের গুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় হৃদয় ভূঁইয়া মারা যায়। তবে পুলিশ ও নিহতের পরিবার স্পষ্টভাবে ভিন্ন কথা বলছেন।

সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন কয়েকজন নারী। তাদের সঙ্গে হত্যাকান্ডের বিষয়ে কথা জানতে চাইলে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কথা বলে বিপদে পড়তে চাই না। এমনিতেই আমাদের বাড়ির পুরুষ লোকজন ভয়ে বাড়িতে থাকে না। পুলিশের মামলায় কাকে ধরে নিয়ে জেলে পাঠায় সেই ভয় আছি।

নিহতের বড় ভাই মামলার বাদী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার দাবি, নির্বাচনী সহিংসতায় তার ছোট ভাই হৃদয় ভূইয়া কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। নির্বাচন শেষে ফলাফল জানতে গিয়ে আজিজ সরকারের সমর্থকদের গুলিতে মারা যায়। এ হত্যাকান্ডের জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।

নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী আজিজ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা রুনার সঙ্গে। তিনি জানান, কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজের পরিসংখ্যান বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তার স্বামী গত শনিবার বিজয়ী হওয়ার কর্মী সমর্থক নিয়ে আনন্দ মিছিল করে বাড়ি চলে যান। পরে জানতে পারেন পরাজিত প্রার্থী রাজুর কর্মী সমর্থকরা ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন মারা যায়। এঘটনায় নিহতের পরিবার হয়রানী করার জন্য আমাদের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্ত অন্য কোন সংস্থার মাধ্যমে করার দাবি করছি। সুষ্ঠু তদন্ত হলে গুলির আসল রহস্য বেড়িয়ে আসবে।

সোনারগাঁও থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান পিপিএম বলেন, নির্বাচনী সহিংসতার পর থেকেই আসামিরা পলাতক। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জু করে।

উল্লেখ, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনে গত শনিবার সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ইউপি সদস্য পদে দুধঘাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোরগ প্রতীকে আব্দুল আজিজ সরকার ও তালা প্রতীকে কায়সার আহম্মেদ রাজু প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ভোট গ্রহন শেষে আজিজ সরকার মোরগ প্রতীকে ৯২৯ ভোট ও তালা প্রতীকে কায়সার আহম্মেদ রাজু ৮১১ ভোট পান। এসময় ফলাফল জানার পর ওই কেন্দ্রের প্রিজাইর্ডিং কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে পুনরায় ভোট গননার অনুরোধ করেন।পুনরায় ভোট গননা করে রাজুর পক্ষে এক ভোট যুক্ত হয়। এ নিয়ে রাজুর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। রাজু প্রিজাইর্ডিং কর্মকর্তাকে তৃতীয় দফায় ভোট গননা করতে দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে রাজূ কৌশলে কেন্দ্রের বাহিরে চলে যান। এ বিষয়টি তার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা লোকজনকে উপজেলায় আসতে বাধা সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে রাজুর সমর্থকরা ভোটে ব্যবহৃত ব্যালটের বস্তা ছিনিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এসময় গুলিতে কায়সার আহম্মেদ রাজুর সমর্থক দুধঘাটা গ্রামের আমির আলী ভূঁইয়ার ছেলে হৃদয় ভূঁইয়া ও কামাল ভূঁইয়ার ছেলে ওমর ফারুক (২৭) গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়াও ১২জন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদয় ভূঁইয়া মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে পুলিশের ৮সদস্য আহত হন। ঘটনার পর থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © Sonargaonnews 2022
Design & Developed BY N Host BD