শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ব্যস্ততম মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ড্রেন নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ড্রেন নির্মাণ কাজে দরপত্রে উল্লেখিত নিয়মে কোন কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত কয়েকদিন ধরে হাসমত এন্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সেই কাজে অনিয়ম ধরা পড়ে। এতে করে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে নির্মাণ কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী হাসমত আলী হাসু। তিনি দাবি করেছেন কার্যাদেশ মেনে নির্মাণ কাজ হচ্ছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সোনারগাঁওয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় পানি নিষ্কাষনের জন্য ফুটওভার ব্রীজ থেকে শুরু করে শহীদ মজনু পার্ক পর্যন্ত ড্রেন ও গুরুত্বপূর্ন ৪টি স্থানে আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য দরপত্র আহবান করে। পরে হাসমত এন্ড ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় কার্যাদেশ পান। কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত ২০দিন ধরে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। নির্মাণ কাজের শুরু থেকে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজে অনিয়ম করে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, কার্যাদেশ মেনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ করছেন না। ড্রেনের মাটি সরিয়ে তারা বিক্রি করে দিয়েছেন। ড্রেনের দুপাশের দেয়াল ঢালাইয়ের পর ফাঁকা অংশে ড্রেন থেকে তোলা মাটি ব্যবহার করে ভরাট করার কথা থাকলেও তা পাশ্ববর্তী খাল থেকে এনে পলিথিন মিশ্রিত কাদা মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণ কাজে ৬ ইঞ্চি স্লাব ও ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ৫ইঞ্চি। ১২মিলি রড ব্যবহার করার উল্লেখ থাকলেও সেখানে ব্যবহার হচ্ছে ১০মিলি রড। ড্রেনের সলিংয়ে তিন ইঞ্চি সিসি ঢালাইয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র এক ইঞ্চি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ মেনে যেভাবে কাজ করার কথা সেভাবে কাজ করছেন না। ৭-৮টি গ্রামে পানি নিষ্কাষনের জন্য এ ড্রেন ব্যবহার করা হবে। নিন্মমানের কাজ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টান কাজের সঠিক নজরদারি করলে অনিয়ম করতে পারবে না।
হাবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান রিটন বলেন, ঢালাইয়ের পর কিউরিং না করেই ময়লা আবর্জনা দিয়ে ঢালাইয়ের ফাঁকা স্থান ভরাট করছেন। ময়লা আবর্জনার দুগর্ন্ধে আশপাশে বসা যাচ্ছে না। অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বাড়ি মজলিস গ্রামের আশরাফুল আলম বলেন, ড্রেন নির্মাণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষ হবে। তবে নির্মাণ কাজে অনিয়ম থাকলে ড্রেনটি বেশিদিন স্থায়ী হবে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম রোধে প্রশাসনের নজরদারি দরকার।
হাসমত এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্ত্বাধিকারী হাসমত আলী হাসু বলেন, কার্যাদেশ মেনে নির্মাণ কাজ করছেন। নির্মাণ কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। ড্রেনের মাটি সরিয়ে কাজের অন্য সাইডে নেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশে ঢালাইয়ের ফাঁকা অংশে বালুর ব্যবহার উল্লেখ নেই। তবে সঠিক নিয়মে তার প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে রিসিভ করেননি।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আল রাজী নিলয় বলেন, ঠিকাদারী কাজে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। কার্যাদেশ মেনেই কাজ করতে হবে। অনিয়মের প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত দিন