ঘুরিফিরি

সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্য ও প্রত্নস্থল পরিদর্শনে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির দিনব্যাপী রোড-শো

সোনারগাঁও নিউজ ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ৯:৫৯ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করি, ‘প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ঐক্য গড়ি’ এ স্লোগান নিয়ে দিনব্যাপী রোড-শো অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ‘সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’ ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষে এ রোড শোর আয়োজন করে।

এ কর্মসূচিতে উপজেলার নির্ধারিত সব প্রত্নস্থল পরিদর্শন, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। সকালে পানাম নগরী থেকে যাত্রা শুরু করেন কমিটির সদস্যরা। ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ও প্রত্নস্থল পরিদর্শন শেষে পানাম নগরীতে কর্মসূচি শেষ হয়।

পানাম নগরীতে রোড শোর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক ড. আকমল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পারভীন সুলতানা।

রোড শোতে অংশ নেন কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি রহমান মুজিব, সাংবাদিক মিজানুর রহমান মামুন, সদস্য সচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন, কমিটির সদস্য ব্যাংকার  মতিউর রহমান, সাংবাদিক ফজলে রাব্বী সোহেল, মোকাররম মামুন, গাজী মোবারক, ইমরান হোসেন, মো. বিল্লাল হোসেন, লেখক ও শিক্ষক আসমা আখতারী, লেখক রোকেয়া আক্তার, লেখক মোফাখখার সাগর, সেলিম আহমেদ প্রধান, শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী শিপন, সংগঠক শংকর প্রকাশ প্রমুখ।

রোড শোতে অংশগ্রহনকারীরা উপজেলার মহজমপুর শাহী জামে মসজিদ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, জ্যোতিবসুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, কোম্পানি-কা ব্রিজ, প্রাচীন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ও হাদিস চর্চাকেন্দ্র, শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা ও ইব্রাহিম দানিশমান্দের সমাধি এবং সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি, ইউসুফগঞ্জ মসজিদ, ফতেহ শাহ মসজিদ, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, শাহ আবদুল হামিদ মসজিদ, পানাম সেতু, নীলকুঠি, ক্রোড়ি বাড়ি, পোদ্দারবাড়ি, বড় সরদারবাড়ি, ছোট সরদারবাড়ি ও পানাম নগরী পরিদর্শন করেন।

কর্মসূচি চলাকালে প্রত্নসম্পদের গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে লিফলেট বিতরণ করা হয়। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রত্নস্থলের সুরক্ষা এবং সংরক্ষণে নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয় তুলে ধরা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোনারগাঁওয়ের প্রত্ননিদর্শনের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পরিচয় বাড়ানো এবং সংরক্ষণের কাজে তাঁদের সম্পৃক্ত করা এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। গণমাধ্যমে লেখালেখির মাধ্যমে পুরাকীর্তিগুলোর ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজন দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে চান তাঁরা। যথাযথ বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তির সংস্কার ও সংরক্ষণে সরকার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগের জন্য জনমত গড়ে তোলাও তাঁদের উদ্দেশ্য।