অপরাধ

সোনারগাঁওয়ে আড়াইহাজারের যুবদল নেতা খুন 

সোনারগাঁও নিউজ ২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:৪৬ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জহির রহমান ফকির (৫০) নামে এক যুবদল নেতা খুন হয়েছেন।
বুধবার রাত ১০ টায় উপজেলার সম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর কিশোরগঞ্জ বালুরমাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি তার ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে এ হামলার শিকার হন।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত জহির রহমান আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, নিহত জহির রহমান ফকির বাড়ি আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে হলেও তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পরিবার নিয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।  সোনারগাঁওয়ে সম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় তার একটি ফার্মেসি রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য উল্লেখ করে ওসি বলেন, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র (চাপাতি) দিয়ে কুপিয়ে জখম করে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাগিনা মো.  ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, কালাপাহাড়িয়া এলাকার এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর মামার দ্বন্দ্ব ছিল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কালাপাহাড়িয়া এলাকার মোবারক হোসেন ও তার লোকজন আমার মামাকে এ হত্যা করেছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আমার মামা নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মোবারক হোসেনও চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দেন। এ কারণে প্রথম থেকে মামাকে মোবারক হোসেন হুমকি দিয়ে আসছে। আজ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলো।
তিনি, তার মামার হত্যাকান্ডে জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খোরশেদ আলম সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, জহির যুবদলের ত্যাগী নেতা ছিল। তার বাসা কালাপাহাড়িয়া হলেও সে মুন্সিগঞ্জে বসবাস করতো। হঠাৎ খবর পেলাম ১৫-২০ জনের কোনো একটা গ্রুপ তারে হত্যা করছে। ছেলেটা প্রায় সময় আমাকে বলতো যে তাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু কে বা কার সঙ্গে ওর দ্বন্দ্ব ছিল তা নিশ্চিত হতে পারিনি। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি এমন খবরে।
এদিকে এ হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক। তিনি বলেন, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।