বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
৩০ টাকায় মিলছে এক প্লেট বিরিয়ানি। যা নিয়ে রীতিমতো হৈ চৈ পড়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শিল্পনগরী মেঘনা নিউ টাউন এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে খাবার প্রেমীরা বিরিয়ানির স্বাদ নিতে ভিড় জমাচ্ছেন। বিপরীতে খাবার প্রেমীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দোকানের মালিক নাজির হোসেনকে। মানুষের পছন্দের তালিকায় বিরিয়ানী কার না পছন্দ। বিরিয়ানি পছন্দ করে না এমন মানুষ পাওয়া খুবই দুষ্কর। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের ভাগ্যে সহজে এখন এ খাবার জোটে না। তাই দোকানের মালিক নাজির হোসেনের এ উদ্যোগ।
জানা যায়. উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের শিল্প নগরী মেঘনা নিউ টাউন এলাকার বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজ নামের দোকানটির অবস্থান। সপ্তাহের ৭ দিনই বিকেল ৪ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত তার দোকানে বিরিয়ানি বিক্রি হয়। বিরিয়ানি খেতে দোকানটিতে স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ছুটে আসছেন। ৩০ টাকা প্লেট বিরিয়ানির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে দোকানটিতে ক্রেতাদের চাপ কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। দোকানটিতে বিরিয়ানি বসে খেলে দাম ৩০ টাকা এবং পার্সেল নিয়ে গেলে ৪০ টাকা রাখা হয়।
সরেজমিনে মেঘনা নিউ টাউন এলাকায় ওই দোকানে গিয়ে দেখা যায়, থরে থরে সাজানো রয়েছে সাদা সাদা প্যাকেট। পাশেই রয়েছে ডেকভর্তি বিরিয়ানি। আর কালো কালিতে একটি কাগজে বড় করে লিখা বিরিয়ানি প্রতি প্লেট ৩০ টাকা। এছাড়া সেখানে বসে অনেকেই দোকানটিতে বসে বিরিয়ানির স্বাদ নিচ্ছেন। আবার অনেকেই সারিবদ্ধ হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে বাসার জন্য বিরিয়ানি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজের মালিক নাজির হোসেন সোনারগাঁও নিউজকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ ব্যবসা করে আসছেন। প্রথম দিকে তার দোকানে ক্রেতাদের চাপ কম থাকলেও কয়েকদিন ধরে ক্রেতাদের প্রচুর চাপ রয়েছে। স্বল্প মূল্যে বিরিয়ানি বিক্রি করে তার লাভ কম হলেও তিনি চান কম দামে যেনো সবাই বিরিয়ানি খেতে পারেন। এ বিরিয়ানিতে তিনি পোলাও চাউল, খুদ, ছোলা বুট, গরুর মাথার মাংস, তেল ও বিভিন্ন মশলা ব্যবহার করেন। তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনই এ বিরিয়ানি রান্না করেন। বিরিয়ানি রান্না করতে তার খরচ কম পড়ে।
তিনি আরো বলেন, শুরুতে প্রতিদিন তার ২০০-৩০০ প্লেট বিরিয়ানি বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩৫০-৪০০ প্লেট বিরিয়ানি বিক্রি হয়। শীতকালে বিরিয়ানির চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তাই তখন বিক্রিও কয়েকগুন বেশি হয়। প্রতিদিন ১০-১২ হাজার টাকার বিরিয়ানি বিক্রি হয়। আগামীতে তার এ ব্যবসা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিরিয়ানি খেতে আসা একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহতাব মিয়া রিতু সোনারগাঁও নিউজকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখে তিনি বন্ধুদের নিয়ে বিরিয়ানি খেতে এসেছেন। বর্তমানে জিনিসপত্রের যে দাম এসময় ৩০ টাকায় সকালের নাস্তাও হয় না। সেখানে স্বল্প দামে গরুর মাংসের বিরিয়ানি পাওয়া অনেকটা আশ্চর্যের বিষয়।
বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রেশের চাকুরীীজীবি সাদ্দাম হোসেন সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, অফিস ছুটির পর তিনি প্রায়ই এখানে বিরিয়ানি খেতে এ দোকানে আসেন। দাম অনেক কম হলেও বিরিয়ানির স্বাদ অতুলনীয়। খাবারের মান খুবই ভালো। অল্প টাকায় মানুষ ভালো খাবার পাচ্ছেন।
আপনার মতামত দিন