শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে মাসব্যাপী কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে । বিকেল ৩ টায় ফাউন্ডেশনের ময়ূর পঙ্খী লোকজ মঞ্চে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করা হবে। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নারায়ণগঞ্জ- ৩ (সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমরুল চৌধুরী, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপন দেবনাথ, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইব্রাহিম, মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণি, সোনারগাঁও পৌরসভা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তৈবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গাজী আমজাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাজী নুরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। মেলা উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
আবহমান গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিবছরই মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব আয়োজন করে। ১৯৯১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে মাসব্যাপী এ লোকজ মেলার আয়োজন করে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে ফাউন্ডেশনে গিয়ে দেখা যায়, রং বেরঙের সাজ সজ্জায় সাজানো হয়েছে ফাউন্ডেশন চত্বর। ফাউন্ডেশনের প্রধান ফটকের সামনে থেকে রাস্তার দু’ধারে সু-সজ্জিত আনন্দ পতাকায় সাজানো হয়েছে। ফাউন্ডেশনের অফিস কক্ষের সামনে দৃষ্টি নন্দন বড় আকারের কাগজের তৈরি ময়ূর বসানো হয়েছে। যা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ফাউন্ডেশনের পুরো চত্বর জুড়ে লোকজ আল্পনা আঁকা হয়েছে। এছাড়াও মেলা চত্বরে দোকানীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে তারাও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। দোকানীরা কেউ কেউ শেষ সময়ে বাঁশ ও কাঠের সাজ সজ্জার কাজ করছেন।
কারু পন্যের দোকানী মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, প্রতি বছর এ লোকজ মেলায় লোকজ পন্য নিয়ে ব্যবসা করে থাকি। এ বছরও মেলায় পন্য নিয়ে এসেছি। শীতের আমেজে এ বছর আশা করি মেলা জমে উঠবে। আমাদের প্রস্তুতিও শেষ করেছি।
আমজাদ হোসেন নামের এক কারু পন্যের ব্যবসায়ী জানান, নির্বাচন শেষ হয়েছে। আশা করি লোকজন আসবে। এবারের মেলা কারুশিল্পীদের মিলন মেলায় পরিণত নেবে। বেচা বিক্রিও ভালো হবে বলে প্রত্যাশা করছি।
দেশীয় সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনে আয়োজিত মাসব্যাপী এ লোক কারুশিল্প মেলায় কর্মরত কারুশিল্পী প্রদর্শনী, লোকজীবন প্রদর্শন, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ, নাগরদোলা, গ্রামীণ খেলাসহ বাহারী পণ্য সামগ্রীর প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন লোকজ মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বিলুপ্ত প্রায় গ্রামীণ খেলা, কর্মরত কারুশিল্পীর কারু পন্যের প্রদর্শনীসহ নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মেলা চলাকালীন সময়ে ওই এলাকার যানজট, আইনশৃঙ্খলা ও খাদ্যের মূল্য তালিকা নিয়ে মতবিনিময় সভায় আলোচনা করা হয়। আগামী ১৬ জানুয়ারী শুরু হয়ে ১৪ ফেব্রæয়ারী পর্যন্ত মাসব্যাপী চলবে।
ফাউন্ডেশন সূত্র জানান, এবারের মেলায় কর্মরত কারুশিল্পী প্রদর্শনীর ৩২টি স্টলসহ ১০০টি স্টাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রথিতদশা ৬৪ জন কারুশিল্পী সক্রিয়ভাবে মেলায় অংশ নেবেন।
এ বছর মৌলভীবাজার ও ঝালকাঠীর শীতল পাটি, মাগুরার শোলাশিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ও মাটির পুতুল, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁ, টাঙ্গাইল ও ঠাকুরগাঁয়ের বাঁশ বেতের কারুশিল্প, ঐতিহ্যবাহী জামদানি, কাঠের চিত্রিত হাতি- ঘোড়া পুতুল, বন্দরের রিকশা পেইটিং, কুমিল্লার তামা-কাঁসা-পিতলের কারুশিল্প, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারুশিল্প, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা পুতুল, বগুড়ার লোকজ খেলনা ও কুমিল্লার লোকজ বাদ্যযন্ত্রের শিল্পীসহ ১৭ জেলার কারুশিল্পীগণ মেলায় অংশ নিবেন। এবারও মেলায় বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে কারুশিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ১৫টি স্টল প্রদান করা হয়েছে। মাসব্যাপী লোকজ উৎসব প্রতিদিনের সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠান লোকজ মঞ্চে বাউলগান, পালাগান, ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালীগান, জারি-সারিগান, হাছন রাজারগান, শাহ আব্দুল করিমের গান, লালন সঙ্গীত, ক্ষুদ্র- নৃ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ নৃত্যনাট্য, গ্রামীণ খেলা, লাঠিখেলা, মুড়ি ওড়ানো, চর্যাগান, লোকগল্প বলা ইত্যাদি অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।
টুরিস্ট পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জোনের ইনচার্জ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, লোকজ মেলা উপলক্ষে দেশী পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকদেরও নিরাপত্তা দিতে টুরিস্ট পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। মেলার সকল স্পটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। আশা করি যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে লোকজ মেলাকে স্বার্থক করে তোলা হবে।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী নুরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ফাউন্ডেশনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। লোকজ মঞ্চে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। মেলা উপলক্ষে ফাউন্ডেশন চত্বর বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আগত দর্শনার্থীরা বেশি অনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
আপনার মতামত দিন