শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
এখন ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতি রঙ-বেরঙে সেজেছে। চারিদিকে সবুজের সমাহার। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লিচুর সোনালী মুকুল। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুগ্ধ হয়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকা। বাগান চাষিরা গাছের পরিচর্যা করতে মেতে উঠেছে। সোনারগাঁওয়ের ১টি পৌরসভা ও ৩টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বসন্ত কালের আগমনে ফাগুনে আগুন লেগেছে। ফাল্গুন মাসের শুরু থেকে পরিবর্তন শুরু হয়েছে প্রকৃতির। লিচু গাছের পুরনো পাতা ঝড়ছে আর নতুন পাতা গজিয়ে উঠেছে। আর সেই কঁচি পাতার ফাঁকে বেড়িয়ে এসেছে বিভিন্ন জাতের লিচুর মুকুল। বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, বাগানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি লিচু গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে বের হয়েছে মুকুল। প্রতিটি বাগানের গাছে গাছে মুকুল আর মুকুল। বাগান চাষি কিংবা গাছ মালিকদের সোনালী স্বপ্ন উঁকি মারছে সবুজ পাতার ফাঁকে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আগামী মাসে লিচুর মৌসুমে প্রচুর লিচু বাজারজাত করতে পারবে, এমনটিই আশা করছেন বাগান চাষিরা। এরইমধ্যে ভাল ফল পাওয়ার আশায় বাগান চাষিরাসহ বসত বাড়িতে থাকা লিচু বাগানের গাছের পরিচর্যা শুরু হয়েছে। মুকুল আসা শুরু থেকেই গাছের গোড়ায় পানি দিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পর ফুল ঝড়ে পরে তা থেকে লিচুর গুটি বের হবে। তখন কীটনাশকসহ বিভিন্ন ভিটামিন জাতীয় স্প্রে করবে কৃষকেরা।
সোনারগাঁওয়ে যেসব জায়গায় লিচু বাগান আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পানাম, গোয়ালদী, বৈদ্যেরবাজার, ভট্টপুর, গাবতলী, হাড়িয়া, অর্জুন্দী, দুলালপুর, গোবিন্দপুর, কৃষ্ণপুরা, বাগমুছা, হাতকোপা, দত্তপাড়া, আদমপুর, খাগুটিয়া, খাসনগর দীঘিরপাড়, চিলারবাগ, দৈলরবাগ, দরপত, টিপরদী, হরিশপুর, তাজপুর, সাদীপুর, ইছাপাড়া, বারদী, সেনপাড়া, বালুয়াদিঘীর পাড় ইত্যাদি। পাতি, কদমী আর বোম্বাই এই তিন প্রজাতির লিচুর ফলনই সোনারগাঁয়ের বাগানগুলোতে বেশি হয়ে থাকে। তবে এর মধ্যে পাতি লিচুর চাষই সবচেয়ে বেশি হয়। তা ছাড়া এ প্রজাতির লিচু সবচেয়ে আগে বাজারে আসে। এছাড়া কদমী চাষ করছে অনেকেই।
সোনারগাঁও পৌরসভার দিঘীরপাড় এলাকার লিচু চাষি পিয়ার হোসেন সোনারগাঁও নিউজকে জানান, বাগান কয়েক ধাপে বিক্রি হয়। গাছে মুকুল আসার আগেই এবং লিচু গুটি হওয়ার পরে বাগান বিক্রি হয়। লিচু পাকার আগেই বেশ কয়েকবার পরিবর্তন হয় বাগানের মালিকানা। তবে অনেক বাগান মালিকরা লাভের আশায় নিজেই শ্রম দেন। অনেক সময় খরার কারণে লিচুর আকার ছোট হয়ে যায়। আবার অনেক সময় বৈশাখী কালবৈশাখী ঝড়ে সব লÐভÐ হয় লিচু বাগান। তখন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় লিচু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
সোনারগাঁজ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা সোনারগাঁও নিউজকে জানান, চলতি মৌসুমে এবার উপজেলায় বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ১০ হেক্টর জমিতে লিচুর গাছ রয়েছে। আমরা লিচু চাষিসহ বসত বাড়িতে থাকা লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাছ মালিকদের সেবা দিয়ে আসছি।
তিনি আরো বলেন,এখন লিচুর মুকুল এসেছে তাই গাছের গোড়ায় পানি দেওয়াসহ বাগানে কীটপতঙ্গ, মাকড়সা দূর করার জন্য বালাইনাশক স্প্রে করাসহ গাছ ও মুকুলের যতœ নেওয়ার বিষয়ে গাছ মালিকদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী লোকজন নিয়ে লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মাঠে কাজ করছেন।
আপনার মতামত দিন