শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ
       
শিরোনাম :
সোনারগাঁওয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন  স্বাধীনতাই আমাদের বাঙালির অস্তিত্ব–সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের সংকট, ভোগান্তিতে চালক ও যাত্রীরা সোনারগাঁওয়ে অসহায় বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম ঈদ উপহার পেলেন নতুন টিনের ঘর সোনারগাঁওয়ে আগুনে ১০টি দোকান ভূস্মিভুত, সাংসদের আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি  সোনারগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী সোনারগাঁওয়ে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরষ্কার বিতরণ সোনারগাঁওয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ  সোনারগাঁওয়ে কৃষকদলের ঈদ সামগ্রী বিতরণ সোনারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের আর্থিক অনুদান প্রদান

ভাগ্য ফেরাতে প্রবাসে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন কবির হোসেন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ গ্রাম।  সে গ্রামের বাস করেন কবির হোসেন। দারিদ্রতার কষাঘাতে ৭ সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিল সংসার চালাতে।  তিনি বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সমিতি থেকে ঋণ করেছেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে যখন চাপ আসতে থাকে, তখনই সিদ্ধান্ত নেন প্রবাসে গিয়ে ভাগ্য ফেরাবেন। প্রবাস যাওয়ার সিদ্ধান্ত যেন তার কাল হয়ে দাড়ালো। আদম ব্যবসায়ীদের পাল্লায় পড়ে তিনি তুরস্ক যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে পরিচিত এক দালালের মাধ্যমে তিনি ২০২৪ সালের ১৩ মে তিনি উজবিকিস্তান যান ঢাকার পুরানা পল্টনের বিকে ইন্টারন্যাশনাল লির্বাটি ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিডেট নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে। সেখানে তাকে আটকে রেখে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপনের জন্য শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন করা হয়। তিনি ১৩ জানুয়ারী অনাহার ও নির্যাতনে মারা যান। পরিবার মুক্তিপনের ৮০ হাজার টাকা দিয়েও বাচাঁতে পারেননি কবির হোসেনকে। টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় তার ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। কবির হোসেনের ভাগ্য তো ফিরলো না, লাশ হয়ে ফিরলেন নিজ বাড়িতে। এ ঘটনায় গত ১৯ জানুয়ারী বিকেলে নিহতের স্ত্রী কুহিনুর বেগম বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় দু’জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত তো দূরের কথা ফোনেও তাদের সঙ্গে কথা বলেননি।

সোমবার সকালে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় তার বাড়িতে লাশ নিয়ে আসা হয়। সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতরণা হয়।

নিহতের বড় ভাই এবাদুল্লাহ সোনারগাঁও নিউজকে জানান, উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর কিশোরগঞ্জ গ্রামের মো. আবুল কাশেমের ছেলে কবির হোসেন। তারা ৫ ভাই। ভাইদের মধ্যে কবির হোসেন আর্থিকভাবে দূর্বল ছিল। বাড়িতে থাকাবস্থায় সে রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রি, অল্প পুঁজিতে মুদি ব্যবসা, কখনো অটোরিক্সা চালাতেন। বিভিন্ন এনজিও অথবা নির্দিষ্ট সুদের বিনিময়ে গ্রামীণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চাপে তিনি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে আত্মীয় স্বজন ও এনজিও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ, কর্জ নিয়ে গত বছরের ১৩ মে একটি বিমান ফ্লাইটে উজবিকিস্তান যান। সেখান থেকে তার তুরস্ক যাওয়ার কথা ছিল। তুরস্ক নেওয়ার কথা বলে সেখানে একটি কক্ষে নিয়ে মুক্তিপনের জন্য আটকে রেখে নির্যাতন করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে আকুতি জানায়। আর্থিক দূরবস্তার পরিবার টাকা যোগাতে হিমশিম খাচ্ছিল। এক পর্যায়ে একটি বেসরকারী এনজিও থেকে ৮০হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সেই টাকা গত ১২জানুয়ারী রাসেল নামের একজনের মাধ্যমে সেখানে পাঠায়। টাকা পাঠানোর পরদিন কবির হোসেনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর লাশ আনতে ঘড়িমসি শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়েরের পর আদম ব্যবসায়ী মো. জাহিদ মিয়া বিদেশ যাওয়ার ৮ লাখ টাকাসহ লাশ আনতে রাজি হন। দীর্ঘ ৪৮দিন পর সোমবার সকাল সাড়ে ৫ টার একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে লাশ আসে। সেখানে তিনি লাশ গ্রহন করেন।  সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার বাড়িতে লাশ নিয়ে আসলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার অবতরণা হয়। পরে বাদ যোহর চরকিশোরগঞ্জ মদিনাতুল উলূম মাদ্রাসা ও এতিমখানা মাঠে জানাযা শেষে পঞ্চায়েত কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। উজবিকিস্তানে কবির হোসেনের মৃত্যুর পর থেকে বিকে ইন্টারন্যাশনাল লির্বাটি ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিডেট নামের এজেন্সির  মালিক মো. কালাম মান্নানসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের অফিসে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে যায়। সেখানে নিহতের পরিবার একাধিকবার গেলে তাদের অফিস বন্ধ পান। তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহতের ফুফাতো ভাই রফিকুল ইসলাম সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, কবির হোসেনের দুই ছেলে, তিন মেয়ে। আর্থিক দুরবস্থায় পড়ে ভাগ্য ফিরাতে বিদেশ গিয়েছে। কে জানতে তার এ পরিণতি হবে। তার দু’ চালা ঘরের দরজা পর্যন্ত নাই। পুরানো কাপড় ঘরের দরজা হিসাবে ব্যবহার করে। কবির হোসেনের মৃত্যুতে তার পরিবার অথৈ সাগরে হাবু ডুব খাচ্ছে।

নিহতের স্ত্রী কুহিনুর বেগম জানান, তুরস্ক যাওয়ার জন্য ৮লাখ টাকা জমা দিয়ে উজবিকিস্তান নেওয়ার পর তাকে একটি কক্ষে নিয়ে টাকার জন্য প্রতিদিন মারধর করা হয়। প্রতিদিন মোবাইল ফোনে আমাদের কাছে কান্না করতো। দ্রæত টাকা পাঠিয়ে তাকে তাদের কাছ থেকে মুক্ত করতে। তাকে তেমন খাবার দিতো না। বরফের পানি খেয়ে ও তাদের নির্যাতনে সে মারা যান। বলতে বলতে তিনি এক পর্যায়ে মুর্ছা যান। খানিক পর আবার তিনি বলেন, একটি এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সেই রাসেল নামের একজনের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছি। রাসেলও সেই টাকা নির্যাতনকারীদের দেয়নি। আমাদেরও ফেরত দেয়নি। আমার ৫ সন্তান নিয়ে এখন সাগরে পরে আছি। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।

সোনারগাঁও  থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) সঞ্জয় কুমার বসাককে একাধিকবার ফোন দেওয়ার হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খাঁন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তিনি কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। কি কারনে এসআই যাননি এ বিষয়ে খোজ নেওয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( খ- অঞ্চল) আসিফ ইমাম বলেন,  বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.
© All rights reserved © Sonargaonnews 2022
Design & Developed BY N Host BD