সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের চারদিন পর হেলালউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার মেঘনা নদীর শাখা নদী মারিখালীর রতনপুর ব্রীজ এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও বৈদ্যেরবাজার নৌ- ফাঁড়ি পুলিশ যৌথভাবে এ মরদেহ উদ্ধার করে।
হেলাল উদ্দিনের লাশ পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত হেলালউদ্দিনের বোন জামাই মোক্তার হোসেন লাশ সনাক্ত করেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার সকালে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার আল মোস্তফা ফ্যাক্টুরির সামনে থেকে তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ের লাশ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মো. শাহ কামাল।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজারের সোনাময়ী এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার ডুবে একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ হন। ঘটনার সময় রায়েশা বেগম নামের একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের ১৩ জন আত্মীয় স্বজন বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাঁসিসহ ট্রলারযোগে আসেন। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়। এসময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার ৮জনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনার আধা ঘন্টা পর রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ও শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তাদের কোন সন্ধান মেলেনি। তবে শুক্রবার বিকেলে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ট্রলারে দুটি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার তৎপরতা স্থগিত করে। পরে দু’দিন পর গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যেরবাজার এলাকায় আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদীতে ভাসমান অবস্থায় সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিন ভাই বোনের মরদেহ উদ্ধারের পর ওইদিন পরিবারের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল। নিহতদের মামা হায়াত মিয়ার কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়। সোমবার দুপুরে নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহত রায়েশা বেগম (৫৫) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে ওই নারীর লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাাঁড়ি পুলিশ। নিহত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। এ নিয়ে ৫ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত হেলালউদ্দিনের বোন জামাই মোক্তার হোসেন জানান, পুলিশের কাছ থেকে তার স্ত্রীর বড় ভাই হেলালউদ্দিনের মরদেহ গ্রহন করা হয়েছে। দাফনের জন্য লাশ গ্রামের বাড়ি হোমনার শ্রীমুদ্দি নেওয়া জন্য রওনা হয়েছেন। এর আগে শনিবার তার দুই ভাতিজা ও ভাতিজির লাশ নিয়ে দাফন করেছেন।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।
আপনার মতামত দিন