বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার দুই কর্মকর্তা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন জৈনপুর গ্রামের নারী পুরুষ। পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি কোম্পানির পক্ষে তদন্ত ছাড়া মামলা গ্রহনের অভিযোগ তুলে তাদের প্রত্যাহার দাবি করেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচীর খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক ঘটনাস্থলে এসে কাউকে হয়রানির করা হবে না বলে আশ্বাস দিলে কর্মসূচী শেষ করে জৈনপুর গ্রামবাসী।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জৈনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম জহির, নাসিমা আক্তার, মাহমুদা আক্তার, শিল্পী আক্তার, তানভীর হোসেন, ফুল মিয়া প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানায়, জৈনপুর গ্রামের ‘আর অ্যান্ড এইচ-জৈনপুর রোড ভায়া পিরোজপুর ইউপি অফিস’ সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ( এলজিইডি) আওতায় হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে একটি কোম্পানির ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ফাটল সৃষ্টি হয়। ফলে গত মে মাসে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে গত ২০ আগস্ট সিমেন্ট ভর্তি করে একটি ট্রাক কোম্পানিতে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী বাধা দেয়। এসময় কোম্পানির ঠিকাদার আবু সাঈদের নেতৃত্বে আবুল কালাম সোপান, নাঈম, লিটনসহ ১০-১২ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা করে জনকে আহত করে। এ ঘটনায় কোম্পানি ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়। কোম্পানির অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও গ্রামবাসীর অভিযোগ আমলে নেয়নি।
মানববন্ধনে মাহমুদা বেগমের অভিযোগ, ভারী যানবাহন চলাচলে বাধা দিলে কোম্পানির লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নারীসহ সাতজন আহত হন। পরে কোম্পানির পক্ষ থেকে উল্টো আহত ব্যক্তিসহ সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও দিনমজুরকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ কোম্পানির দায়ের করা অভিযোগের তিন ঘন্টার মধ্যে কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই মামলা গ্রহন করে।
মানববন্ধনে তানভীর হোসেন বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষে দেওয়া অভিযোগের এখনো মামলা গ্রহণ করেনি পুলিশ। বরং তদন্তের নামে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন ও এসআই হারুন মিয়া কোম্পানির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মামলা গ্রহন করে হয়রানি করছেন। তাদের প্রত্যাহার দাবি করেন তিনি।
সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন মিয়া বলেন, ছোট রাস্তায় ট্রাক চলাচলকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ট্রাক আটকে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সার্কেল ও ওসি স্যার মামলা নিয়েছেন। তবে মামলায় সাংবাদিকের নাম ছিল কিনা জানা নেই।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ পেয়ে মামলা গ্রহন করা হয়েছে। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে সুবিধা গ্রহনের বিষয়টি সত্য না। গ্রামবাসীর পক্ষে কেউ অভিযোগ দেননি।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ঘটনার সময় আমি এ থানার দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে হয়রানি করা হবে না আশ্বস্ত করে কর্মসূচী থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
আপনার মতামত দিন