নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। রোববার সকালে উপজেলার বৈদ্যের বাজারের সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম অনিকা খাতুন ফারহানা (২৪)। সে কুমিল্লার মেঘনা থানার নলছটি গ্রামের কালাচাঁনের মেয়ে।
এ ঘটনায় রোববার বিকেলে নিহত ফারহানার বাবা কালাচান বাদী হয়ে ফারহানা স্বামীর সাগরকে প্রধান আসামি করে তিন জনের নামে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর পরই স্বামী পলাতক রয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, কুমিল্লার মেঘনা থানার নলছটি গ্রামের কালাচাঁনের মেয়ে অনিকা খাতুন ফারহানার সাথে ৯ বছর আগে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে সাগরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সাগর বিদেশ যাওয়ার জন্য ৪ লাখ টাকার দাবি করে। এ নিয়ে প্রায় সাগর তার স্ত্রী ফারহানাকে মারধর করত। পরে দাবিকৃত যৌতুকের ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কয়েক মাস বিদেশ করে সাগর দেশে ফিরে আসে। তাদের ১ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে সন্তান রয়েছে। সে আবারো শ্বশুর বাড়ি থেকে আরো ২ লাখ টাকা যৌতুক আনতে বলে স্ত্রী ফারহানাকে চাপ দেয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তাদের দাম্পত্যে ঝগড়া হচ্ছে। ঈদের দিন রাতে এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে আবারো ঝগড়া হয়। রোববার সকালে নিহতের ননদ তানজিনা তার ভাবীর মা বাবাকে ফোন করে জানান, ফারহানা অসুস্থ। পরে ফারহানার বাবা মা সাতভাইয়াপাড়া এলাকায় বাসায় এসে ফারহানাকে ঘরের মেঝেতে মৃত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখতে পায়। এ ঘটনায় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ নিজে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।
সোনারগাঁও থানার ওসি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
আপনার মতামত দিন