নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেছেন, গ্রাম্য আদালত ব্যবস্থা পুনরায় চালুর মাধ্যমে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্তি দিতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সোনারগাঁস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন সহপ্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ।
এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, গ্রাম আদালত একসময় গ্রামের মানুষের জন্য দ্রুত ও কার্যকর বিচার ব্যবস্থার প্রতীক ছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এ ব্যবস্থাকে চালু করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকার এসে তা বাতিল করে দেয়। এরপর থেকেই সমাজে অপরাধ, ডাকাতি, দুর্নীতি ও মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ সোনারগাঁ গড়তে আমি প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
সভায় তিনি সোনারগাঁওয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
এমপি মান্নান আরো বলেন, সোনারগাঁওকে আধুনিক ও পরিকল্পিত উপজেলায় রূপ দিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রশস্তকরণ, যানজট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধা বাড়াতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাস হয়েছে। এরই মধ্যে উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনদুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।
মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সভায় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, কাঁচাবাজার ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আপনার মতামত দিন