অপরাধ

সোনারগাঁওয়ে কিশোরীকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী স্ত্রী গ্রেপ্তার

সোনারগাঁও নিউজ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৫৭ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধে গরম পানি দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ১৩ বছর বয়সী আফরিন আক্তার নামের এক কিশোরীকে শরীর ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় স্বামী স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কান্দাপাড়া গ্রামের জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার।
এঘটনায় মঙ্গলবার ভূক্তভোগী কিশোরীর মা রওশন আরা বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের আজ বুধবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে।
এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে কিশোরীর মামি সোনিয়া আক্তার গরম পানি দিয়ে শরীর ঝলসে দেয়। দগ্ধ ওই কিশোরী ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ ও  এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও কান্দাপাড়া গ্রামের রওশন আরার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার ছোট  ভাই জাকির হোসেনের জমি নিয়ে বিরোধ চলেছিল। এ বিরোধের জের ধরে  জাকির হোসেনের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বিভিন্ন সময় ভূক্তভোগী পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্ববর রোববার দুপুর দুইটার দিকে রওশন আরা ও তার পরিবারের লোকজন কিশোরী মেয়ে আফরিন আক্তারকে বাড়িতে রেখে বাইরে যান। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে কৌশলে রওশন আরার ঘরে প্রবেশ করে। এসময় ঘুমন্ত অবস্থায় কিশোরী আফরিন আক্তারকে তার গায়ে গরম পানি ছুড়ে মারে তার মামি সোনিয়া আক্তার। এতে কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। ঘটনার পর ভূক্তভোগী পরিবার স্থানীয়দের কাছে বিচার দাবি করেন। কয়েক দফায় সালীশি বৈঠক বললেও কোন সমাধান দিতে পারেনি। এ ঘটনায় গত সোমবার সকালে কিশোরী আফরিনের মা বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামী করে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর  মঙ্গলবার দুপুরে সোনারগাঁও থানায় মামলা গ্রহন করা হয়। পরে কান্দাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে রহমত আলীর ছেলে জাকির হোসেন ও জাকির হোসেনে স্ত্রী সোনিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
ভূক্তভোগী কিশোরীর মা রওশন আরা সোনারগাঁও নিউজকে জানান, তার ভাই জাকির হোসেন ও তার স্ত্রীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জের ধরে তাদের সঙ্গে দীর্ঘ শত্রুতা ছিল। এছাড়াও একটি মোবাইল হারানোকে কেন্দ্র করে তার মেয়েকে দোষারোপ করা হয়। এ ঘটনায় তাদের সঙ্গে তর্ক বিতর্ক হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার ভাইয়ের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার তার মেয়ের গায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় গরম পানি ঢেলে দেয়। এতে তার শরীর ঝলসে যায়।
তিনি আরো জানান, তার মেয়েকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি নিয়ে আসার পর গ্রামের বিচার শালিস ডাকা হয়। সালিসে কোন সমাধান করতে না পারায় তিনি এক মাস পর থানায় মামলা দায়ের করেন।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, কিশোরীকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আজ আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনা এক মাস আগের হলেও পরিবারের মধ্যে থাকায় মিমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। মিমাংসা না হওয়ার মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী পরিবার।