শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ
       
শিরোনাম :
সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবি : দ্বিতীয় দিনেরও নিখোঁজ ৪ জনের সন্ধান মেলেনি মেঘনায় ট্রলারডুবি: উদ্ধার কাজ পরিদর্শনে এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁওয়ে অবৈধ চুনা ও ঢালাই ফ্যাক্টরি বন্ধের দাবিতে “পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন” এর মানববন্ধন  ১০ বছর পঙ্গু হয়ে থাকা অসহায় সালেহার পাশে এমপি পুত্র সজিব মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবিতে ১ নারী নিহত, একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ   সোনারগাঁওয়ে মেঘনায় ডুবে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু: শোকাহত পরিবারের পাশে এমপি মান্নান সোনারগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র সাদেকুর রহমান ভূঁইয়ার ইন্তেকাল সোনারগাঁওয়ে মসজিদে কোরআন অবমাননার অভিযোগে যুবক আটক সোনারগাঁওয়ে আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশের দুই সদস্য, পুলিশের অস্বীকার সোনারগাঁওয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবি : দ্বিতীয় দিনেরও নিখোঁজ ৪ জনের সন্ধান মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনারগাঁও নিউজ : 
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ২৮ ঘন্টায় একই পরিবারের নিখোঁজ ৪ সদস্যে সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া যায়নি।  বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান করতে আসার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবে এক নারী নিহত ও একই পরিারের ৪ জন নিখোঁজ হন। নিখোঁজদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পাওয়া গেলেও নিখোঁজ কাউকে পাওয়া যায়নি।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন হেলালউদ্দিন (৫৪), তার ছেলে সজির হোসেন(২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছেলে সামিন হোসেন (৫)। তারা কুমিল্লা উপজেলার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রামের বাসিন্দা।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধানে মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। পরে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চেষ্টার পর নিখোঁজের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার কাজ স্থগিত করে। পরে শুক্রবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তৎপরতা চালিয়ে ট্রলারের সন্ধান পেলেও নিখোঁজদের সন্ধান পাননি। তবে ট্রলারে দুটি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ  রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি।
এদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ও নিহতের পরিবারকে সান্তনা দিতে বিয়ে বাড়িতে ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অপর দিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহত রায়েশা বেগম (৫৫) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাাঁড়ি পুলিশ।
নিহত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের ১৩ জন আত্মীয় স্বজন বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাঁসিসহ ট্রলারযোগে আসেন। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়। এসময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার ৮জনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনার আধা ঘন্টা পর রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নিখোঁজদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।  শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকে। সাড়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মেঘনা নদীর পাড়ে উৎসুক জনতা সারাদিন ভিড় করেছেন।
ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তাদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা নিখোঁজদের সন্ধানে মেঘনা নদীর তীরে অপেক্ষায় রয়েছেন ।
বিয়ের কনে সাজিয়া আক্তারের চাচা আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রলার ডুবিতে তাদের ৪ আত্মীয় নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও তার ফুফাতো বোন রায়েশা বেগম পানিতে ডুবে নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়িতে বিয়ের আনন্দ থাকার কথা ছিল। সেই আনন্দ বিশাদে পরিণত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন,অন্ধকারের কারণে  বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুনরায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও নিখোঁদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৪ জনের সন্ধানে চেষ্টা চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, কোষ্টগার্ড নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ট্রলারের সন্ধান পাওয়া গেছে। ট্রলারে দুটি গরু একটি খাসি বাধা অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। তিনি আরো জানান, নিহত নারীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে শুক্রবার সকাল থেকে তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
পোস্টটি শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.
© All rights reserved © Sonargaonnews 2022
Design & Developed BY N Host BD