অপরাধ

কাচঁপুরে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

সোনারগাঁও নিউজ ৮ নভেম্বর ২০২৬ , ৩:৪৮ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চোর সন্দেহে এক যুবকে পিটিয়ে আহত করার ১০ দিন পর ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইভ সাপোর্টে মারা গেছে। এর আগে ২৯ অক্টোবর উপজেলার কাচঁপুরের ললাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো ফারুক (৪০)। শনিবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।  রোববার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ললাটি এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

নিহত ফারুক কাচঁপুরের ললাটি এলাকার সেরাজ উদ্দিনের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, এ ঘটনা নিহত ফারুকের মা ওহেদা বেগম বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলা পুলিশ দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে। ৩২৬ ধারায় দায়ের করা মারধরের মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তর হবে।

নিহতের মা ওহেদা বেগম জানান, গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে স্থানীয় ললাটি এলাকার আমিনুল ভেন্ডার , তার ভাগিনা অমিত হাসানসহ কয়েকজন মিলে তাঁর ছেলে ফারুককে বাসা থেকে ডেকে ললাটি জনতা বাজার নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় ফারুক আমিনুল ভেন্ডারের বাড়ির কারেন্টের তার চুরি করেছে। চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে বাজারে আটকে রেখে এলোপাথাড়ি মারধর ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে অবস্থার অবনিতি ঘটলে তাকে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মারধরের ঘটনায় গুরুত্বর আহত ফারুকের মা বাদি হয়ে আমিনুল ভেন্ডার, অমিত হাসানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁ থানা ৩২৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। কিন্তু আহত ফারুকের অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাকে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ১০ দিন লাইভ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার রাতে মারা যায়। পরে ঢাকায় ফারুকের ময়নাতদন্ত শেষে রোববার রাতে লাশ ললাটি নিয়ে আসা হয়।

নিহতের মা ওহেদা বেগম ছেলে হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, আমার ছেলেকে বাজারের মধ্যে বহু মানুষের সামনের পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি অপরাধীদের বিচার চাই।

সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক আরও বলেন, ৩২৬ ধারায় মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণিত হবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যাই আইন হাতে তুলে নিয়ে তাকে মারধর করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।