বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কিশোর ফয়সাল আহমেদ হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই মামলায় বাকি ৩ আসামিকে খালাস দিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক মো. আমিনুল হক এ রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন সোনারগাঁও পৌরসভার বাঘমহিষা ঋষিপাড়া গ্রামের তপন চন্দ্র দাসের ছেলে অপূর্ব চন্দ্র দাস (২১)। একই সাথে মামলায় অভিযোগপত্রে থাকা আরো ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়। খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন একই এলাকার মৃত নিতাইয়ের ছেলে তপু চন্দ্র দাস অপু (২৭), নিতাই চন্দ্র দাসের ছেলে তপন চন্দ্র দাস, মৃত রাইস্যা চন্দ্র দাসের ছেলে নিতাই চন্দ্র দাস।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, নিখোঁজের ৮দিন পর ফয়সাল আহম্মেদ (১৭) নামের এক স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলায় আদালত গতকাল সোমবার এক আসামির মৃত্যুদন্ড ও বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি অপূর্ব চন্দ্র দাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কিশোর ফয়সাল ২০২২ সালে ২৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোনারগাঁ পৌরসভার লাহাপাড়া থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ঘটনায় ২৮ জানুয়ারি ফয়সালের মামা মো. মানিক মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে র্যাব -১১ ছায়া তদন্তে নামেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়ার প্রমাণ পায়। এরই সূত্র ধরে অপূর্ব চন্দ্র দাসকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার স্বীকারোক্তিতে ৮দিন পর ৪ ফেব্রæয়ারি ভোরে পার্শ্ববর্তী বাগমহিষা ঋষিপাড়া গ্রামের পাশে পঙ্খীরাজ খাল থেকে র্যাব সদস্যরা ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২৬ জানুয়ারি রাতে অপূর্ব চন্দ্র দাস ফোনে ফয়সালকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। ফয়সাল দেখা করতে গেলে অপূর্ব দাস তাকে বাড়ির পাশের উঁচু ভিটায় নিয়ে যায়। সেখানে কথা বলার এক ফাঁকে অপূর্ব দাস তার হাতে থাকা দড়ি দিয়ে ফয়সালের গলায় পেঁচিয়ে ধরে। এক পর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে খালে কচুরিপানার নিচে ফয়সালের লাশ ডুবিয়ে রাখে।
আপনার মতামত দিন