মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সীলমারা, ভোট গ্রহন স্থগিত, প্রতিপক্ষের প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়া , প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখাসহ নানা অপ্রতিকর ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভোট গ্রহন শেষ হয়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে সম্ভুপুরা, জামপুর , নোয়াগাঁও ্ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। তবে প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের পাকুন্দা সরকারি বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে দুপুরে আওয়ামীলীগ ও জার্তীয় পার্টির প্রার্থীর সমর্থকদের প্রায় ঘন্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় ভোট গ্রহন বন্ধ থাকে। কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা নারী পুরুষ ছুটাছুটি করে চলে যায়।
লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী আশরাফুল আলম মাকসুদ অভিযোগ করেন, দুপুরে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ছোট ছেলে রোমান ও এজেন্ট সালাম সিকদার আমার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতিকের ব্যালটে সীল মারতে থাকে। খবর পেয়ে কেন্দ্রে এসে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলি। এসময় রোমান ব্যালট বক্স নিয়ে দৌড়ে মাঠের মধ্যে চলে আসে। পরে আমি তাকে ধরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় এসব ব্যালট উদ্ধার করে কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
তবে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। দুই প্রার্থীর বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটির জের ধরে সংর্ঘষ হয়। পরে আধাঘন্টার মতো ভোট গ্রহন বন্ধ ছিলো। পরে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে দুই প্রার্থীকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় আইনশৃখলা বাহিনীর সদস্যরা। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু জানান, আধা ঘন্ট ভোটগ্রহন বন্ধ থাকার পর আবার পুনরায় ভোটগ্রহন শুরু হয়। ব্যাট ছিনতাই বা জাল ভোটের কোন ঘটনা ঘটেনি।
অপরদিকে সম্ভুপুরা ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী নাসির উদ্দিনের সমর্থকরা দুর্গাপ্রসাদ ইসলামিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রব করে দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী আব্দুর রব অভিযোগ করেন, নৌকা প্রতিকে প্রার্থীর সমর্থকরা সকালেই প্রতিটি কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার কারনে আমাকে এক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এছাড়া চৌধুরি গাঁও উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ১২ থেকে ১ টা পর্যন্ত কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতিকে সীল মারে। এসময় প্রায় ১ হাজার বেশী ভোট কাষ্ট দেখনো হয়েছে। এছাড়া নৌকা প্রতিকের প্রার্থী বাড়ি নদীপরিবেষ্টিত চরকিশোরগঞ্জ এলাকার তিনটি কেন্দ্র দখল করে ভোট দেয়া হয়েছে।
তবে লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী নাসির উদ্দিন কেন্দ্র দখল করে সীলমারা ও জাপা প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তা শুন্যের কোটায়। তিনি বিএনপির আমলে বিএনপি আবার এখন জাতীয় পার্টির এমপি সোনারগাঁওয়ে থাকার কারনে তার আশিবাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে চেয়ারম্যানের বৈতরনী পার হওয়ার জন্য বার বার রং বদল করায় জনগন তাকে প্রত্যাক্ষান করেছে। তার পরাজয় নিশ্চিত জেনে সে আবোল তাবল বলছে।
এদিকে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশরর্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট শেষ হওয়ার ২০- ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রে ঢুকে সীল মারার চেষ্টা করে। এসময় প্রতিপক্ষের এজেন্টরা বাধা দিলে তিনি তাদরে উপর চড়াও হন। এ নিয়ে কেন্দ্রে ভেতরেই দুই পক্ষের মধ্যে চরম হৈচৈ শুরু করে। এনিয়ে কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এছাড়া গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেম্বার প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবরপেয়ে র্যাব ও বিজিবিরটিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
অন্যদিকে সনমান্দি ইউনিয়নের দুই মেম্বার প্রার্থী সমর্থকরা সংঘষে জড়ায়। এসময় এক পক্ষ ব্যাটবাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে নির্বার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং ভোট গ্রহন স্থগিত করে। এসময় পুলিশ ব্যাটবাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আটটি ইউনিয়নেই ভোট গ্রহন শান্তিপুর্ণ ভাবে শেষে হয়েছে। কোন হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আপনার মতামত দিন