অপরাধ

সোনারগাঁওয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী আইয়ুব হত্যায় দুজন গ্রেপ্তার

সোনারগাঁও নিউজ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১২:৩৯ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কাঁচপুর এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী আইয়ুব হোসেন হত্যাকান্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কাঁচপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার মো. মানিক মিয়ার ছেলে মো. শাহিনুর ইসলাম(৩০) ও কাঁচপুর উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত ছাহাদ আলীর ছেলে মো. জামির হোসেন (৫৭)। গ্রেপ্তারকৃত শাহিনুর ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
জানা যায়, উপজেলার কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে ভাঙারি ব্যবসায়ী আইয়ুব হোসেন গত মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন বুধবার সকালে কাঁচপুর জালালাবাদ ওষুধ কোম্পানির পেছনের ওই ব্যবসায়ীর ভাঙ্গারি গোডাউনের পাশে ডোবায় একটি রহস্যজনক বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সোনারগাঁও থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিকসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডোবা থেকে বস্তাটি উদ্ধার করে। বস্তার মুখ খুলে ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আইয়ুব হোসেনের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়নগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী  বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামি সনাক্ত করে কাঁচপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় শাহিনুর ইসলাম ও মো. জামির হোসেন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত মো. শাহিনুর ইসলাম ও জামির হোসেনসহ আরো ৩ জনসহ অজ্ঞাতনামা ২-১ জন আইয়ুবকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আইয়ুব হোসেনের ভাঙ্গারীর দোকানে ঢুকে তাকে হত্যা করে । পরে লাশ হাত পা বেধে বস্তায় ভরে পাশের ডোবায় ফেলে চলে যায়।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এক আসামি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।