শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
সৌদি আরবে কফিশপে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক কলেজ ছাত্রকে সাপ্লাই ভিসায় পাঠিয়ে প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বুধবার সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মাহফুজুর হোসেনের বাবা মোক্তার হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের দুর্গাপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ স্বপন নামে এক আদম ব্যবসায়ী গজারিয়া কলিমুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও আইইএলটিএস সম্পন্নকারী মাহফুজুর হোসেনকে সৌদি আরবে কফিশপে ১৫শ’ রিয়াল বেতনে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য প্রথম ধাপে মাহফুজুরের পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন তিনি।
গত ১১ জানুয়ারি মাহফুজুরকে সৌদি আরবের রিয়াদে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, প্রতিশ্রুত কফিশপের চাকরির পরিবর্তে তাকে তিন মাস মেয়াদি ‘ওয়্যারহাউস ওয়ার্কার’ বা লোড-আনলোড সাপ্লাই ভিসায় পাঠানো হয়েছে। পরে তাকে একটি প্রতিষ্ঠানে সাপ্লাই কাজে যোগ দিতে বলা হলে তিনি আপত্তি জানান। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় দালালরা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এবং একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তার এক আত্মীয় তাকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনার পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁও রিপোর্টার্স ক্লাবে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জানা যায়, মাহফুজুরকে যে ভিসায় পাঠানো হয়েছে, তা দিয়ে স্থায়ী কর্মপরিচয়পত্র (আকামা) পাওয়া সম্ভব নয়। তাকে অন্য মালিকের অধীনে স্থানান্তর হয়ে নতুন আকামা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটি অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও অভিযোগ অনুযায়ী স্বপন মাত্র ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
গত ১১ এপ্রিল ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মাহফুজুর সৌদি আরবে অবৈধ হয়ে পড়েন। পরে দীর্ঘদিন নানা ঝুঁকির মধ্যে থাকার পর ২৪ মে প্রায় ৬ হাজার ৫শ’ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৫শ’ টাকা) খরচ করে একটি প্রতিষ্ঠানে ফুড ডেলিভারি কর্মী হিসেবে বৈধতা লাভ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চাকরির নামে নেওয়া ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, বৈধ হতে অতিরিক্ত খরচ এবং চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়ার কারণে মোট প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ৫শ’ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাহফুজুর ও তার পরিবার।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোহাম্মদ স্বপনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত দিন