নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত ১৫ জুলাই (মঙ্গলবার) বদলি হয়েছেন। এই বদলির খবরে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার এটিকে পরিকল্পিত অপপ্রচারের ফল বলেও মন্তব্য করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মনোভাব নিয়ে কাজ করে গেছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় তাঁকে এলাকার অনেকে ‘মানবিক ডাক্তার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাত-বিরাতে অসুস্থ রোগীদের জন্য ছুটে যাওয়া, সীমিত সরঞ্জামেও সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা-এসবই ছিল তাঁর কর্মজীবনের অংশ।
স্থানীয়রা জানান, অনেক গরিব রোগী প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে অক্ষম হওয়ায় ডা. দিগন্ত নিজের চেম্বারে কিংবা হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন। কখনও কখনও নিজ পকেটের টাকা দিয়ে ওষুধও সরবরাহ করেছেন। সেবার মানসিকতায় গড়া এমন একজন চিকিৎসকের বদলি সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
অনেকেই মনে করেন, ডা. দিগন্ত হাসপাতালের ভেতরে সক্রিয় দালালচক্র, কমিশনভিত্তিক ডায়াগনস্টিক সিন্ডিকেট ও ওষুধ কোম্পানির প্রভাব মোকাবিলা করায় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। বদলিটি সেই ষড়যন্ত্রেরই ফল বলে অনেকে অভিযোগ করছেন।
ডা. দিগন্ত বলেন, আমার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বদলি করা হয়েছে। আমি সোনারগাঁওয়ের জনগনের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। চেষ্টা করেছি মানুষকে শতভাগ সেবা দিতে। আমি
ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছি।
এই বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথির মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সচেতন মহলের মতে, একজন চিকিৎসকের প্রকৃত সেবামূলক মনোভাব ও সাহসী অবস্থানের মূল্যায়ন যদি সময়মতো না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন দায়িত্বশীল চিকিৎসকরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। তাই বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
আপনার মতামত দিন