সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং গ্যাস সংকটে শিল্পকল কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেকার হয়ে পড়ছে হাজার হাজার শ্রমিক। কমে যাচ্ছে আয় রোজগার। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া। সিএনজি পাম্পগুলোতে ভিড় করছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার পরও মিলছে না গ্যাস। তবে, রুপগঞ্জ-আড়াইহাজার শিল্পাঞ্চলের জন্য স্থাপিত বিদ্যুতের নতুন গ্রীড চালু হলে কমবে বিদ্যুৎ সংকট। দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উঠার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ।
রূপগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ছোট বড় শিল্প কলকারখানা রয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করেন। কয়েক মাস ধরেই এসব শিল্প কলকারখানায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ভোল্টেজের ওঠানামায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এখানে বিদ্যুতের চাহিদা ২৪০ মেগাওয়াট থাকলেও মিলছে না পর্যাপ্ত পরিমাণের বিদ্যুৎ। ফলে অতিরিক্ত লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। একদিকে অতিরিক্ত লোডশেডিং অন্যদিকে গ্যাস সংকটে ভয়াবহ পরিচিতি তৈরি হয়েছে। বড় বড় শিল্পকলা কারখানায় গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎও উৎপাদন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কারণেই উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদনের গতি কমে যাচ্ছে এবং শ্রমিকদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য উৎপাদন সম্পন্ন না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে শ্রমিকদের বেতন সহ আনুষাঙ্গিক খরচ চালাতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে শিল্প মালিকদের।
এদিকে, সিএনজি পাম্পগুলোতেও দীর্ঘ লাইন ধরেও গ্যাস পাচ্ছেন না যানবাহন চালকরা। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হচ্ছে সিএনজি প্রাইভেট কারসহ বাস
চালকদের। গ্যাস না থাকায় অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিছু পাম্পপ গ্যাস মিললেও ৩ টাকা থেকে ৫০ টাকার বেশি গ্যাস ঢুকছে না গাড়িতে।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, বর্তমানে হরিপুর থেকে ন্যাশনাল গ্রিডের মাধ্যমে রূপগঞ্জের বিভিন্ন সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সেই বিদ্যুতের একটি অংশ পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আড়াইহাজারে একটি নতুন সাবস্টেশন চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তখন হরিপুর থেকে যে বিদ্যুৎ বর্তমানে আড়াইহাজারে যাচ্ছে, তা আর সেখানে সরবরাহ করতে হবে না। ওই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রূপগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। নতুন স্টেশন চালু হলে রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে এবং বর্তমান সংকট কিছুটা লাঘব হবে।
শ্রমিক ও গাড়ি চালকরা, ও যাত্রীরা জানান, অতিরিক্ত লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকো মিলছে না গ্যাস।গ্যাস না পাওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে চালকদের কাছ থেকে। দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সকলে।
এ ওয়ান পোলার লিমিটেড এর জোনের এক্সিকিউটিভ মো: ইতমিনান বাছেদ প্রান্ত জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অংকটা প্রোডাকশন কমে যাচ্ছে। ফলে বিদেশি বায়াররা অন্যান্য দেশ থেকে প্রোডাক্ট কিনছে।ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানান।
রংধনু সি এন জি ফুয়েলিং স্টেশন এর ম্যানেজার আজিজুল ইসলাম জানান, ১৫ দিন যাবত যাবত গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আমরা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি এলএনজি সমস্যা ও একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় ক্যাচ সংকট দেখা দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-২ জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ জানান, আগের তুলনায় এখন বিদ্যুতের লোডশেডিং কমে ১০% এসেছে। আড়াইহাজারের বিদ্যুতের গ্রেড চালু করতে বিদেশ থেকে আসবে। আশা করা যাচ্ছে বিদ্যুতের বাকি সমস্যাটুকু দূর হয়ে যাবে।
নারায়ণগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু জানান, আগে রূপগঞ্জে বিদ্যুতের লোডশেডিং ছিল 40 থেকে 50 % সেটি এখন কমে এসেছে 8 থেকে 10%। আশা করা যাচ্ছে কিছুদিনের ভিতরেই ৪ থেকে ৫% এর মধ্যে নিয়ে আসবো। গ্যাসের সমস্যা দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করছে। কুয়েত থেকে গ্যাস আনার চেষ্টা চলছে। দ্রুত গ্যাস সংকট দূর হবে বলে জানান।
পরিশেষে রূপগঞ্জের শিল্প কারখানা টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে হবে। অন্যথায় রূপগঞ্জের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের দিকে ধাবিত হবে।
আপনার মতামত দিন