নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সন্তান শহিনুর নাহার প্রিয়তি। মেধার জোড়ে নিজের স্বপ্নপূরণ করলেন তিনি। এ বছর ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে আজ একজন ডাক্তার হয়েছেন। তিনি সব বাধা পেরিয়ে অর্জনে যুক্ত করলেন এমবিবিএস পাসের নতুন পালক। হয়ে উঠলেন পুরো এলাকার অনুপ্রেরণা।
তার বাড়ি সোনারগাঁও পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামে। তার বাবা মোঃ শরীফ ভূঁইয়া। তার এ সাফল্য পুরো গোয়ালদী গ্রাম গর্বিত।
তাঁর এই সাফল্যের পেছনের অনুভূতি প্রকাশ করে ডা. শহিনুর নাহার প্রিয়তি বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, বাবা-মায়ের নিরলস সমর্থন এবং শিক্ষকদের পথ প্রদর্শন ছাড়া এই কঠিন পথ অতিক্রম করা সম্ভব হতো না। ডাক্তারি কেবল একটি ডিগ্রি নয়, এটি মানুষের সেবা করার একটি বড় দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সারাজীবন যেন সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবায় নিজেকে নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়োজিত রাখতে পারেন, সেটাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
তাঁর পিতা শরীফ ভূঁইয়া বলেন, তাঁর মেয়ে ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিল। সে আমাদের তৃতীয় কন্যা। আজ এ মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন সত্যি হওয়ায় একজন বাবা হিসেবে তাঁর আনন্দের শেষ নেই। বাবা-মা হিসেবে তার এই অর্জন আমাদের জন্য অসীম আনন্দের।
আমাদের তিন কন্যাকেই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন। আমাদের বড় মেয়ে একজন স্থপতি (আর্কিটেক্ট), দ্বিতীয় মেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে বর্তমানে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে কর্মরত এবং আজ
আমাদের তৃতীয় মেয়েও ডাক্তার হওয়ার মাইলফলক অর্জন করেছে। আজ আমাদের পরিবারের জন্য একটি আনন্দের দিন।
তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমাদের তিন মেয়েরই বিয়ে হয়েছে সম্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত মুসলিম পরিবারে। শিক্ষা, সফল কর্মজীবন, ভালোবাসার পরিবার এবং জীবনে সুখ দিয়ে তাদের আশীর্বাদ করার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই আনন্দের মুহূর্তে আমরা গভীরভাবে স্মরণ করি আমাদের প্রয়াত পিতা মোহাম্মদ ওসমান গণি (সবুর ভূঁইয়া)কে। তিনি ছিলেন একজন গভীরভাবে ধার্মিক, বিনম্র ও জ্ঞানী মানুষ, যিনি সবসময় চাইতেন পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষিত ও সফল হোক। তিনি যদি আজ আমাদের মাঝে থাকতেন, তাহলে অবশ্যই এই সুন্দর মুহূর্তটি আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়ে অনেক খুশি হতেন। তাঁর স্বপ্ন আমাদের সন্তানদের সাফল্যের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হতে দেখে আমরা মহান আল্লাহর কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ আমাদের কন্যা শহিনুর নাহার প্রিয়তিকে একটি উজ্জ্বল, সফল ও আশীর্বাদপূর্ণ ভবিষ্যৎ দান করুন, এবং তাকে একজন সৎ, সহানুভূতিশীল ও নিবেদিত প্রাণ ডাক্তার হিসেবে মানবতার সেবা করার শক্তি, প্রজ্ঞা ও সুযোগ দান করুন।
আপনার মতামত দিন