নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেবত্তর সম্পত্তিসহ স্কুল শিক্ষকের পৈত্তিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আহমেদ হোসেন হিরু নামের এক জাপা কর্মীর বিরুদ্ধে। সোনারগাঁওয়ে প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁও গঙ্গাবাসি রামচন্দ্র ইনস্টিটিউশন মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক অসীম দাস গুপ্তের পৌরসভার আমিনপুর এলাকায়
প্রায় তিন একর সম্পত্তি দখলের পায়তারা করছেন তিনি।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সোনারগাঁও থানা বরাবর স্কুল শিক্ষক অসীম দাস গুপ্ত এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্কুল শিক্ষক অসীম দাস গুপ্ত জানান, উপজেলার আমিনপুর মৌজায় তার পৈত্তিক প্রায় ৪ একর সম্পত্তি রয়েছে। তার বাবা অমল দাস গুপ্তের মৃত্যুর আগে মনসা মন্দির, লক্ষী নারায়ণ জিউ বিগ্রহ মন্দিরের নামে কিছু সম্পত্তি জনসেবার জন্য দেবত্তর করে যান। এসকল সম্পত্তির সেবায়েত হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাবার সকল সম্পত্তি সরকারী খাজনা পরিশোধ করে তিনি ভোগ দখলে রয়েছেন। এ সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি আইনে ক ও খ তপছিলর্ভূক্ত হয়। এ নিয়ে তিনি উচ্চ আদালত ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও আদালতে ৪টি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে এ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উচ্চ আদালতের মামলায় ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার ভাতিজা আহমেদ হোসেন হিরু চাচার প্রভাবে অচেনা মানুষকে ওরারিশ দেখিয়ে জাল ওয়ারশি সনদ তৈরি করে। ওই জাল ওয়ারিশ সনদে তিনি ২ একর ৯৪ শতাংশ জমির একটি দলিল তৈরি করে। এ সম্পত্তি দখলের জন্য গত বুধবার বিকেলে হিরুর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে ওই সম্পত্তিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সাইনবোর্ড তুলে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় ও সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
অসীম দাস গুপ্তের মামাতো ভাই সুমন চন্দ্র সূত্রধর জানান, জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছেন ভূমিদস্যু হিরু। ওয়ারিশ সনদের নামগুলো যাচাই করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নাম পরিচয়ের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তবে পৌরসভার সাবেক মেয়র সাদেকুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্যাডে যে স্বারক ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি স্বারক নাম্বার একই। পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিটি সনদের জন্য আলাদা স্বারক ব্যবহার করে থাকেন। ওই স্বারকের নাম্বার খুজে না পাওয়ার কারনে পৌর কর্তৃপক্ষ নতুন করে ওই নামে ওয়ারিশ সনদ অনুমোদন দিচ্ছেন না।
অভিযুক্ত আহমেদ হোসেন হিরুর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মোবাইল (০১৭১১১২৩৩৯৯)এ একাধিক বার কল করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ক্ষুদে বার্তা দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমান পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, আদালতে মামলা চলাবস্থায় কোন ব্যক্তি জমি দখল করতে পারবেন না। এবিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আমার সঙ্গে ভূক্তভোগী দেখা করেছেন। সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত দিন