নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, মরদেহটি কয়েক দিন আগের হওয়ায় তা আংশিক পচে গিয়েছিল।
মৃত দুজন হলেন বাবা মো. শাহজাহান মিয়া (৬০) ও তাঁর ছেলে উজ্জল (৩৬)। শাহজাহান পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। উজ্জল রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর মো. শাহজাহান মিয়া শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। পারিবারিক বিভিন্ন কারণে তিনি বাড়ির একটি আলাদা কক্ষে বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসপাতাল থেকে শাহজাহানের মরদেহ বাড়িতে আনার পর ছেলে উজ্জলকে খবর দিতে তাঁর কক্ষে যান জামাতা জামাল হোসেন। দীর্ঘ সময় দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জানালার একটি অংশ খুলে দেখেন। এ সময় ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। পরে জানালা দিয়ে তাকিয়ে উজ্জলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
জামাল হোসেন বলেন, উজ্জল হয়তো ঘুমিয়ে আছে ভেবে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করি। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা খুলতেই দুর্গন্ধ পাই। পরে দেখি সে ঝুলে আছে।
উজ্জ্বল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও এলাকার এক তরুণীকে বিয়ে করেন। তবে পারিবারিক কলহের জেরে গত বছর তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একাকীত্ব ও হতাশা থেকে ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে তার বাবার মরদেহ দাফন করা হয়। একই দিন বিকেলে দাফন করা হয় তারও মরদেহ। বাবা-ছেলের একই দিনে দাফনের এ ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গত সোমবার পর্যন্ত উজ্জলকে এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি তাঁরা।
সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে পরিবারকে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
আপনার মতামত দিন