মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আবারও ৩শ’ টাকার নন রেজিস্ট্রার স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরো এক মাদক কারবারি। কর্মসংস্থানের শর্তে তিনি মাদক ব্যবসা ছাড়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মীরেরবাগ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. সুলতান মিয়া জামপুরের বস্তল এলাকায় বিএনপি নেতা আল মুজাহিদ মল্লিকের অফিসে মা, চাচী ও স্ত্রী সন্তানসহ এসে মুচলেকা দেন। এর আগে গত শনিবার মাদক বিরোধী সভায় একই ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের মাছুম ভূঁইয়া ও হাবিবুর রহমান পিয়ার মাদক ব্যবসা ছাড়েন।
জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবনকারীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। এতে করে উঠতি বয়সী স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ যুককরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে মাদকের টাকা জোগাড় করতে যুবকরা চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। পরে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আল মুজাহিদ মল্লিক মাদক কারবারী ও মাদকসেবিদের নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিরোধী সভার করে মানুষের মাঝে মাদকের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার সকালে মো. সুলতান মিয়া নামের এক মাদক কারবারি মা, চাচী, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে আল মুজাহিদ মল্লিকের বস্তল ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করে। এসময় তিনি ৩শ’ টাকার নন রেজিস্ট্রার স্ট্যাম্পে মুচলেকা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জামপুর ইউনিয়ন জাসাস সভাপতি আলমগীর হোসেন, জামপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইউসুফ, জামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রোকন ভুঁইয়া, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আব্দুর রহিম।
মো. সুলতান মিয়া বলেন, মাদক ব্যবসা সমাজের জন্য খারাপ কাজ। মানুষ ভালো চোখে দেখে না। তার কাজের ব্যবস্থা করে দিলে এ খারাপ কাজের ধারে কাছেও তিনি যাবেন না। তবে বিএনপি নেতা আল মুজাহিদ মল্লিক তাকে একটা অটোরিকশা কিনে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক বলেন, মাদক কারবারি ও মাদক সেবীদের চিহ্নিত করে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার শর্তে সুলতান নামের যুবককে কর্মসংস্থানের জন্য অটোরিকশা কিনে দেবেন। দু’তিন দিনের মধ্যে অটোরিকশা কিনে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগেও তার ডাকে সাড়া দিয়ে দুজন মাদক ব্যবসা ছেড়েছেন।
আপনার মতামত দিন