রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
শাহেদ কায়েস :
সাহিত্য শুধু বড় শহরের আলোয় জন্ম নেয় না। অনেক সময় এর সবচেয়ে প্রাণবন্ত চর্চা গড়ে ওঠে শহরের কোলাহল থেকে দূরে, সীমিত সামর্থ্য আর অদম্য ভালোবাসাকে পুঁজি করে। সেই কারণেই কোনো ছোট সাহিত্য পত্রিকার দীর্ঘ পথচলা কেবল একটি প্রকাশনার ইতিহাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একদল মানুষের স্বপ্ন, নিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক দায়বোধের দীর্ঘ সাধনা।
লেখক ও সাংবাদিক হাসান মাহমুদ রিপনের সম্পাদনায় সোনারগাঁ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ‘কিনতু’ সেই রকমই একটি অনুপ্রেরণার নাম। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে একযুগ অতিক্রম করেছে পত্রিকাটি। এই উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ ‘বর্ষা সংখ্যা ২০২৬’, যা ‘কিনতু’র ২৫তম সংখ্যা। একটি উপজেলা থেকে, প্রায় বিজ্ঞাপন ছাড়া, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে টানা বারো বছর ধরে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করে যাওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এমন উদ্যোগ কেবল অর্থের ওপর নির্ভর করে না; এর পেছনে থাকে সাহিত্যের প্রতি গভীর ভালোবাসা, অক্লান্ত শ্রম এবং দীর্ঘস্থায়ী ধৈর্য।
‘কিনতু’র আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর প্রকাশনায় আন্তরিকতা। ছোট কলেবরের হলেও প্রতিটি সংখ্যা যত্ন নিয়ে সাজানো হয়। গল্প, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ, মুক্ত গদ্যসহ নানা ধারার লেখার সমন্বয়ে প্রতিটি সংখ্যা হয়ে ওঠে সাহিত্য প্রেমীদের জন্য একটি ছোট অথচ সমৃদ্ধ পাঠভূমি। নতুন লেখকের পাশে প্রতিষ্ঠিত লেখককে স্থান দেওয়ার মধ্য দিয়ে পত্রিকাটি ধীরে ধীরে নিজস্ব একটি সাহিত্যিক পরিসরও গড়ে তুলেছে।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ছোট কাগজের অবদান সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বহু লেখকের প্রথম প্রকাশ, বহু নতুন চিন্তার সূচনা এবং বহু সাহিত্য আন্দোলনের বীজ জন্ম নিয়েছে এই ছোট পত্রিকাগুলোর পাতায়। তাই ‘কিনতু’র মতো একটি পত্রিকার নিয়মিত প্রকাশ শুধু একটি সম্পাদনা-প্রয়াস নয়; বরং সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতাকে বাঁচিয়ে রাখার এক নীরব সংগ্রাম।
এবারের বর্ষা সংখ্যায় আরও অনেকের লেখার সঙ্গে আমারও একটি লেখা, ‘কথা ও কবিতা : বর্ষায় সোনারগাঁয়ের পঙ্খিরাজ নদী’, প্রকাশিত হয়েছে। এই সংখ্যার একজন লেখক হিসেবে যুক্ত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। পাঠকদের প্রতি আমন্ত্রণ রইল, সংখ্যাটি পড়ুন। বিশ্বাস করি, এর পাতায় পাতায় সমকাল, প্রকৃতি, মানুষ এবং সাহিত্যের নানা রঙ একসঙ্গে ধরা দেবে। হাসান মাহমুদ রিপনকে আন্তরিক অভিনন্দন। ‘কিনতু’র এই যাত্রা আরও দীর্ঘ হোক, আরও সমৃদ্ধ হোক। আগামী দিনেও নতুন লেখক, নতুন ভাবনা এবং নতুন সাহিত্যসৃষ্টির নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হয়ে থাকুক এই পত্রিকা। কারণ সাহিত্যকে জীবন্ত রাখার জন্য বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এমন নিবেদিত ছোট উদ্যোগও সমানভাবে প্রয়োজনীয়। এই একাগ্রতাই ভবিষ্যতের সাহিত্য ইতিহাসে নিজের নীরব অথচ স্থায়ী স্বাক্ষর রেখে যায়।
আপনার মতামত দিন