শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য নাজমুল হক (৫৫) এর লাশ রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নাজমুল হক উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার মৃত হযরত আলীর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার নাজমুল হক মতিঝিলের একটি হোটেলের কক্ষ ভাড়া নেন। পরে শনিবার দুপুরে হোটেল কক্ষের দরজা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে নিহতের অনার্স পড়–য়া ছেলে ইবনুল মোহাম্মদ ইমিছার হক ইরাম মতিঝিল থানায় ছুটে যান। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তবে সোনারগাঁও থানা পুলিশ লাশ উদ্ধারের বিষয়টি মতিঝিল থাকা থেকে অবগত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁও থানার ওসি তদন্ত মো. মহসিন।
নিহতের সাবেক স্ত্রী ও কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ইসরাত জাহান পারুল জানান, নাজমুল হকের সাথে ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর তার পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। দীর্ঘ ২০ বছর তারা এক সঙ্গে সংসার করেন। ২০১৮ সালের ২ রা জানুয়ারী তিন সন্তানসহ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন তার সাবেক স্বামী ২০১৬ সালে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হলে বিভিন্ন কারণে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাদের সংসারে কলহ লেগেই থাকতো। উভয় পরিবারের সিদ্ধান্তে তিন সন্তান নিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে তিনি তার বাবার বাড়িতে একই এলাকায় বসবাস করনে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর তাদের মধ্যে কোন প্রকার যোগাযোগ ছিল না। তিনি আরো জানান, নাজমুল হক মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে ২০১৬ সালে একাধিকবার তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়। মাদক থেকে সংশোধন না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে তিনি ছেলে ইবনুল মোহাম্মদ ইমতিছার হক ইরাম, মেয়ে মুসতানিভা আনিছা হক ও মুসতানিভা নাজিফা হককে নিয়ে কুতুকপুরেই তার বাবার বাড়িতে রয়েছেন। ছেলে ইবনুল মোহাম্মদ ইমতিছার হক ইরাম সরকারী কবি নজরুল কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও দুই যমজ মেয়ে স্থানীয় মোশারফ হোসেন স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন।
কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান জানন, ২০১৬ সালে স্বামী স্ত্রী দুজনেই এক সঙ্গে কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জনপ্রিয়তা থাকায় তারা স্বামী স্ত্রী দুজনেই এক সঙ্গে নির্বাচিত হন। নাজমুল হক এক সময় রেন্ট-এ কারের ব্যবসা ও দোকান ভাড়ায় সংসার চালাতেন। মাদকাসক্ত হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তার এক মাত্র অবলম্বন ৬ শতাংশ বাড়িদোকানসহ বিক্রি করে দেন। বিক্রি করা জমি নিয়ে ক্রেতা ও নাজমুল হকের সঙ্গে দুটি মামলা হয়েছে। চেক ডিজওনার ও প্রতারণা মামলা তিনি সাড়ে ৪ বছরের সাজা প্রাপ্ত হন। সাজা প্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে তিনি এখানে আসেন না। ঢাকায় পালিয়ে থাকতেন। শনিবার দুপুরে লাশ উদ্ধারের পর টিভিতে খবর দেখে তার মৃত্যুর বিষয়টি এলাকাবাসী নিশ্চিত হয়েছেন।
সোনারগাঁও থানার ওসি তদন্ত মো. মহসিন সোনারগাঁও নিউজকে জানান, কতুবপুর এলাকার এক ব্যক্তির লাশ মতিঝিলের একটি হোটেল কক্ষ থেকে উদ্ধারের বিষয়টি ওই থানা থেকে জানিয়েছেন। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গিয়ে তিনি ইউপি সদস্য ছিলেন জানতে পেরেছি।
মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহাগ চৌধুরী সোনারগাঁও নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার নাজমুল হক মতিঝিলের একটি হোটেলের কক্ষ ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরে ওই কক্ষের দরজা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বিষয়ে সোনারগাঁও থানা থেকে বিস্তারিত জানতে পেরেছি। তার ছেলেসহ কয়েকজন থানায় এসেছেন।
আপনার মতামত দিন