নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পাগলা কুকুড়ের কামড়ে নারী শিশুসহ ৩২জন আহত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মহাখালী সংক্রামন ব্যাধী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১০-১২টি গ্রামের মানুষ পাগলা কুকুর আতংঙ্কে রয়েছেন। এ ঘটনার পর উপজেলার মনারবাগ এলাকায় কুকুরটি পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পাগলা কুকুরের কামড়ে বাড়ি মজলিস গ্রামের সাইদুল ইসলাম(৫৫), গোয়ালদী গ্রামের আল হাবীব(১২), বাগমুছা গ্রামের জিকু মিয়া(৩৬), হেনা বেগম (৪২), শরীফ (২৩), নূর আলী (৪), শামসুল ইসলাম (৭২), শাহজাহান (৮০), রিপন সেন(৩৪), আমিনউদ্দিন (৪৩), সাইজউদ্দিন (৫৮), আফজাল (৩৪), কৃষ্ণপুরা গ্রামের হাজেরা বিবি(৫৫), হারুন অর রশিদ, (৫২), বালুয়া দিঘির পাড় গ্রামের হাফসা (৬), জয়রামপুর গ্রামের সিনহা (১১), ষোলপাড়া গ্রামের শুক্কুর আলী (৫৫), মনারবাগ গ্রামের হেলাল মিয়া(২২), আবু তালেব (১২), আলমগীর হোসেন (১৪) ও হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আমেনা (২৪) ও তার ছেলে মারুফ হোসেন (২)সহ ৩২জন আহত হন।
জানা যায়, উপজেলার বাড়ি মজলিস, গোয়ালদী, বাগমুছা, আমিনপুর, লাহাপাড়া, রাইজদিয়া, বালুয়া দিঘির পাড়, কৃষ্ণপুরা, জয়রামপুর, ষোলপাড়া, মনারবাগ ও হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার শিশু, নারীসহ ৩২জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। এদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আংশকাজনক হওয়ায় তাদের মহাখালী সংক্রামন ব্যাধী হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এছাড়াও ২৫জনকে জলাতঙ্কের টিকা দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন জানান, শনিবার ১১ টার দিকে একটি কুকুর এসে উত্তেজিত হয়ে কৃষ্ণপুরা গ্রামের নারী পুরুষদের কামরাতে থাকে। যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে পালিয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁও পৌরসভা এলাকায় কুকুর নিধন হয় না। তাই বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুড়ের উৎপাত বেড়ে গেছে।
কুকুরের কামড়ে বাগমুছা গ্রামের জিকু মিয়া জানান,শনিবার সকালে সাড়ে ১০টার দিকে তিনি সোনারগাঁও জি.আর. ইনস্টিটিউশন মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ লাল ও সাদা বর্ণের মিশ্রন একটি কুকুর এসে আক্রমনাত্মকভাবে তাকে কামড়িয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে গিয়ে অনেক রোগীকে দেখতে পাই। হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় ফার্মেসী থেকে ক্রয় করে টিকা নিতে হয়েছে।
কুকুরের কামড়ে আহত হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আমেনা বেগম জানান, তিনি তার দুই বছর বয়সী ছেলে মারুফ হোসেনকে কোলে নিয়ে দাড়িয়েছিলেন। হঠ্যাৎ লাফিয়ে এসে নাকে মুখে ও হাতে কামড়িয়ে আহত করেছে। এসময় মা ছেলে দুজনকেই কামড়িয়ে আহত করে।
সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) নাসিমা আক্তার জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। জলাতঙ্কের টিকা কম থাকার কারনে অনেককেই ফার্মেসী থেকে কিনতে হয়েছে। যে রোগী প্রথম দিকে এসেছেন তাদের হাসপাতাল থেকে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে।
সোনারগাঁও পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশরেকুল আলম বলেন, সরকারী একটি প্রজ্ঞাপনে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বন্ধ থাকায় নিধন সম্ভব হচ্ছে না। তবে যাদের কুকুর কামড়িয়েছে তাদের প্রত্যায়ন দিয়ে টিকা পেতে সহযোগিতা করা হবে।
আপনার মতামত দিন