নিজস্ব প্রতিবেদক , সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন( সোনারগাঁও জাদুঘর) শুরু হয়েছে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে সোমবার দুপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে বেলুন, ফেস্টুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ, টুরিস্ট পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জোনের ইনচার্জ এ কে এম মাহবুবুল আলম, বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন।
দুপুরে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রথম গেট থেকে একটি বর্ণিল বৈশাখি শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু। শোভাযাত্রাটি ফাউন্ডেশনের মেলা চত্বর প্রদক্ষিন করে। শোভাযাত্রায় স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে মেলার মঞ্চে মেলার উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। আলোচনা শেষে বাউল গান ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, বৈশাখী মেলা আমাদের বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মকে আমাদের শিকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং দেশীয় লোকজ শিল্পের প্রসারে এই মেলার গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি আরো বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা যেমন আনন্দ করব, তেমনি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী করার দিকে নজর রাখতে হবে। বিলাসিতা নয়, দেশের সম্মান বৃদ্ধি করাই আমাদের লক্ষ্য।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধান অতিথি মেলার ঐতিহ্যবাহী ‘হালখাতা’ উদ্বোধন করেন এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী কারুশিল্পীদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে তাঁদের খোঁজখবর নেন।
বক্তারা বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় ফাউন্ডেশনের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান এবং কারুশিল্পীদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
এবারের মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কারুশিল্পীরা তাঁদের হাতের তৈরি ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করছেন। দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারছেন নাগরদোলা, বায়স্কোপ, হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলা ও স্বাদ নিতে পারছেন বাহারি লোকজ খাবারের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী মধু ও কিবরিয়ার বৈশাখের গান দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।মেলা প্রাঙ্গণে লোকজ বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনা এবং দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। মেলা চলবে ২০ এপ্রিল সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত।
আপনার মতামত দিন