নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুজ্জামান অপু ও তার স্ত্রী গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ের বিভাগীয় প্রধান খন্দকার দিল আফরোজাকে তাদের স্ব স্ব পদে বহাল করতে উদ্যােগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ অধ্যক্ষ ও স্ত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ফুলের মালা পড়িয়ে তাদের স্ব স্ব পদে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। এই ঘটনার পর কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে আসে।
এলাকাবাসী জানায়, সোনারগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের এক অংশের চাপের মুখে গত ২৫ আগষ্ট রোববার বিকেলে কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুজ্জামান অপু ও তার স্ত্রী গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ের বিভাগীয় প্রধান খন্দকার দিল আফরোজা পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। ঘটনার দিন কলেজের এক অংশের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ, তার স্ত্রীকে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করানোর পূর্বে কলেজের প্রভাষক জুয়েল রানা ও অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেনেরও পদত্যাগ দাবী করে। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এই ঘটনার পর থেকে অধ্যক্ষ আশরাফুজ্জামান অপু ও তার স্ত্রী খন্দকার দিল আফরোজা কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে তাদের বাড়িতে অবস্থান নিচ্ছিলেন। এদিকে এই ঘটনার পর কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ, শিক্ষক ও অভিভাবক অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রীকে পূর্ণবহাল করতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ও সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। টানা ১৬ দিন আন্দোলন সংগ্রাম করার পর সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের লোকজন অধ্যক্ষ ও স্ত্রীকে স্ব স্ব পদে বহাল করতে ফুলের মালা পরিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিলের মাধ্যমে তাদের চেয়ারে নিয়ে বসিয়ে দেয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবী, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অনার্সের ৪র্থ বছরের মৌখিক পরিক্ষাসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের পরিক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় শ্রেণি কক্ষে পাঠদান ও কলেজের অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছিল।
সোনারগাঁও সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুজ্জামান অপু বলেন, শিক্ষকদের একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা দূর্নীতির অভিযোগ তুলে কিছু শিক্ষার্থীকে উষ্কে দিয়েছিল। তারা চাপ সৃষ্টি করে আমাকে ও আমার স্ত্রী খন্দকার দিল আফরোজাকে বাধ্য করে কম্পিউটারে টাইপ করা একাধিক কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছিল। ঘটনার পর এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল।
আপনার মতামত দিন