রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
অবশেষে ধর্ষকের সঙ্গে সেই কিশোরীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে হলফ নামার মাধ্যমে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের দেনমহর হিসেবে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। সেই বিয়েতে কিশোরীর পক্ষে বাবা ও খালুকে স্বাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। উভয় পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে এ বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই কিশোরীর ভাই মোজাফফর মিয়া।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বারদী ইউনিয়নের একটি গ্রামের আব্দুর রব নামের এক সৌদি প্রবাসীর ধর্ষণে ১৬ বছর বসয়ী এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে শালিস বৈঠকে ১৩ লাখ টাকা রফাদফা হয়। বারদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের দুই বিএনপি নেতা এ রফাদফা করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ টাকা থেকে তারা দু’জন তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের ৫দিন পর মঙ্গলবার অবশেষে ধর্ষকের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁওয়ের বারদী ইউনিয়নের একটি গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুর রব পাশ্ববর্তী বাড়ির ১৬ বছর বয়সী মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীকে তার বাসায় ধর্ষণ করে। তার ধর্ষণে ওই কিশোরী ৭মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই গ্রামে গত ২৩ ডিসেম্ব সোমবার সন্ধ্যায় শালিসী বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকে বারদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া ও বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ও স্বপনসহ তাদের লোকজন ঘটনা ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লাগে। সালিসী বৈঠকে ধর্ষক আব্দুর রবকে ১৩ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য রফাদফা করে। বৈঠকে আব্দুর রব মিয়া নগদ ৩ লাখ টাকা বিএনপি নেতা শাহজাহানের কাছে দেওয়া হয়। ওই টাকা ভূক্তভোগী কিশোরীরর পরিবার পাননি বলে দাবি করেছেন।
বিচার শালিসের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, ১৩ লাখ টাকা রফাদফার পরও বিএনপির দুই নেতাকে আরো ৩ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে এ শালিস বৈঠক হয়। এ তিন লাখ টাকা তারা ভাগবাটোয়ারা করার জন্য এ বিচার সালিসে এ রায় প্রদান করে। পাশাপাশি সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর আব্দুর রবকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে সালিসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভূক্তভোগী কিশোরীর ভাই মোজাফফর মিয়া বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একজন আইনজীবির মাধ্যমে হলফ নামা করে তার বোনের বিয়ে দেওয়া হয়। বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন। একাধিকবার ফোন করা হলে ফোন রিসিভ করেননি।
আপনার মতামত দিন