শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন
রফিকুল হায়দার বাবু:
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা টোল প্লাজা থেকে কাঁচপুর হয়ে সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে যাত্রামুড়া-তারাব বিশ্বরোড-বরাব-রূপসী-বরপা হয়ে ভুলতা গাউছিয়া পর্যন্ত এ যানজটে আটকা পড়ে নাকাল যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। সোমবার গভীর রাত থেকে এ যানজট শুরু হয়ে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সড়কে যানজট ছিল। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ বলছে, দাউদকান্দি এলাকায় একটি দুর্ঘটনা এবং ট্রাকচালকদের মহাসড়কের ওপর ট্রাক দাঁড় করিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়। এদিকে ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। সামান্য দুর্ঘটনাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবিরতা তৈরি করে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় সেখানেও প্রতিদিন যানজট তৈরি হচ্ছে। ফলে একটি সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলেই চাপ অন্য সড়কেও বেড়ে যায়, এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বহুগুণে বাড়ছে।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি রাস্তার মাঝে আটকে থাকায় যানজট শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর সোনারগাঁওয়ের মেঘনা সেতুর কাছাকাছি আরেকটি ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়লে যানজট আরো তীব্র আকার ধারণ করে।
ফলে সোনারগাঁওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক যেন থমকে যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সোনারগাঁওয়ের অংশে একদিকে মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে কাঁচপুর সেতু পর্যন্ত অপরদিকে কাঁচপুর সেতু থেকে তারাবো হয়ে রূপগঞ্জ অংশ পর্যন্ত তীব্র যানজটে আটকে আছে দূরপাল্লার শত শত বাস, ট্রাক, মিনিবাস, প্রাইভেটকার, লরি, কাভার্ডভ্যানসহ নানা যানবাহন। ফলে এই সড়কটিও যানজটে স্থবির ছিল। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হন এ সড়কের যাতায়াতকারী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা।
কাঁচপুর থেকে মোগরাপাড়ার উদ্দেশে আসা আজিম হাসান বলেন, কাঁচপুর থেকে ছোট একটি বাসে উঠার পর প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে মদনপুর অংশে আটকা ছিলাম। প্রায় ৩ ঘন্টায় দড়িকান্দি এসে সড়ক স্বাভাবিক পেয়ে কোনোমতে গন্তব্যে আসতে পেরেছি।
সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা মিনিবাস নাফ পরিবহন যাত্রী রায়হান মাহমুদ জনি জানান। তিনি কাঁচপুরে যাবেন। বাসে ওঠার পর বাস লাঙ্গলবন্দ যাবার পরপরই যানজটে আটকা পড়ে। গাড়ি ধীরে ধীরে প্রায় আড়াই ঘন্টায় মদনপুর আসে। এক পর্যায়ে তিনি বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে কাঁচপুরে পৌঁছে।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, দাউদকান্দিতে ট্রাক দুর্ঘটনার পরই সোনারগাঁওয়ে মেঘনায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ধীরে ধীরে পুরো মহাসড়কে যানজট তীব্র হয়ে ওঠে। তাছাড়া ট্রাকচালকরা অনেকেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাতেই গাড়ির ভেতর ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি আরো বলেন, মহাসড়কে এমন পরিস্থিতি নতুন নয় নিত্যদিন। সামান্য দুর্ঘটনাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবিরতা তৈরি হয়। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় সেখানেও প্রতিদিন যানজট তৈরি হচ্ছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, দাউদকান্দি এলাকায় একটা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায়
ও সড়কের উপর ট্রাক থাকিয়ে চালকদের ঘুমিয়ে পড়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে এ যানজট। পাশাপাশি ঢাকা সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ণ কাজ সেই সাথে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দও যানজটের বিশেষ কারণ। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেটে মহাসড়কে আমরা সোমবার ভোর রাত থেকেই রাস্তায় থেকে যানজট স্বাভাবিকের চেষ্টা করে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
আপনার মতামত দিন