নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক এলাকায় নির্বাচনী বাগবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় এক পক্ষের মামলা গ্রহন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বারদি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওসমান গণি বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করে। মামলার গ্রহনের পর শুক্রবার সকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আব্দুল মতিন ও রতন মিয়া। তাদের বাড়ি নুনেরটেক গ্রামে। গ্রেপ্তারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার উভয় পক্ষ অভিযোগ দায়ের করলেও এক পক্ষের মামলা গ্রহন করে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে উভয় পক্ষের ১২জন আহত হন।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য ওসমান গণি ও ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী শুক্কুর মাহমুদের সঙ্গে আধিপত্য নিয়ে দ্বদ্ধ চলে আসছিল। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সারের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন নিয়ে গত বুধবার রাতে নুনেরটেক লালপুরী ওরসে ইউপি সদস্য ওসমান গণির ছেলে মেহেদী হাসান, জাকারিয়ার সঙ্গে শুক্কুর মাহমুদের সমর্থক বাবুলের কথা কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক হয়। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লম, রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড, চাপাতি নিয়ে একে অপর পক্ষের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ইউপি সদস্য ওসমান গণির পক্ষের রমিজউদ্দিন, মোসলেউদ্দিন, চাঁন বাদশা, বাহাউদ্দিন, স্বপন, মোক্তার, মেহেদী ও শুক্কুর মাহমুদের পক্ষের কামরুল ইসলাম, ওমর আলী , আব্দুল হক, হামিদ আলী, দেলোয়ার হোসেন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রমিজউদ্দিন ও মোসলেউদ্দিনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। তারা দুজনেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবীর পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষের পর আহত রমিজউদ্দিনের ভাই ওসমাণ গণি ও অপর পক্ষের আহত কামরুল ইসলামের চাচা মো. মনির হোসেন বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসমাণ গণির অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহন করে পুলিশ। মামলা দায়েরের পর নুনেরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল মতিন ও রতন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোনারগাঁও থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষের মামলা গ্রহন করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত দিন