শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে নিরীহ কৃষকের জমি পুনরায় দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে। জাল দলিল বাতিল ও দলিল লেখকের শাস্তির জন্য নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। দুই বছর পর মামলার বাদিকে ম্যানেজ করে আপোষের মাধ্যমে ওই নিরীহ কৃষকের জমি দখলের পাঁয়তারা করে। এর আগে ২০২২ সালে এ জমিগুলো দখলের চেষ্টা চালায়।
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় অ্যাম্পায়ার ল্যান্ড মার্ক নামের একটি কোম্পানির পক্ষে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের জমি তিনটি দলিলের মাধ্যমে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সাফকবলা দলিল রেজিস্ট্রি করে দখলের পাঁয়তারা করেন। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৭অক্টোরর নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ভূক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে জামপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন ওরফে আব্দুল লতিফ বাদি হয়ে ১৪ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। প্রায় ২ বছর পর এ মামলার বাদি আব্দুল লতিফ কোম্পানির সঙ্গে আতাঁত করে কৃষদের না জানিয়ে আদালতে আপোষ নামা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ বিষয়টি জানতে পেরে কৃষকরা সম্প্রতি আদালতে গিয়ে তাদের আইনজীবির মাধ্যমে আপত্তি দাখিল করেন।
কৃষকরা আরো অভিযোগ করেন, স্থানীয় ভূমিদস্যু গোলজার হোসেনের নেতৃত্বে ২০-২৫জনের একটি দল অ্যাম্পায়ার ল্যান্ড মার্ক নামের একটি কোম্পানির পক্ষে জমির ভূয়া দাতা সাজিয়ে ২শ ২৮ শতাংশ কৃষকের জমি ছাড়াও সরকারি সম্পত্তি দলিল করে নেয়। সেখানে কৃষি জমি, বাড়িঘর, দালান কোটা ও সরকারী খালও রয়েছে। সেগুলো দখলের জন্য বাদিকে ম্যানেজ করে তাদের সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছেন।
গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক মোসলেম মিয়া বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের পর আদালত সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। পরবর্তীতে তদন্তে কৃষকের জমি জাল দলিলে আতৎসাতের প্রমাণ পায়। এ রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়। আসামীরাও জেল খেটেছেন। প্রমাণ পাওয়ার পর ভিন্ন কৌশলে বাদিকে ম্যানেজ করে পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করছে।
অভিযুক্ত গোলজার হোসেন বলেন, জমির বিষয়ে মামলা আদালতে রয়েছে। আদালতের মাধ্যমেই মিমাংসা করা হবে।
মামলার বাদি আব্দুল লতিফ বলেন, কৃষদের সঙ্গে কোম্পানির আপোষ হবে এ শর্তে আদালতে আপোষ নামা দিতে চেয়েছি। তবে কোম্পানির সঙ্গে তার কোন আতাঁত হয়নি।
আপনার মতামত দিন