নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন দেশের উন্নয়ন, দূর্নীতি দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ও কর্মসংস্থান খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। গত কয়েক বছরে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জান মালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইনে নিশ্চিত করা হবে। দখলবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। দূর্নীতি ও মাদক সমাজের প্রধান শত্রু মন্তব্য করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহর ও এর আশপাশে মাদক ব্যবসার যে বিস্তার ঘটেছে। শুধু নারায়ণগঞ্জ শহরেই ২০টি মাদকের স্পট রয়েছে। তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
রোববার রাত আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর বালুর মাঠে আয়োজিত বিএনপির এক বিশাল নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আরো বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার জনগণকেই পাহারা দিয়ে রক্ষা করতে হবে। হাজার হাজার মানুষের এই উপস্থিতিই প্রমাণ করে জনগণের শক্তি কতটা অপ্রতিরোধ্য। সেই শক্তি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন। আপনারা আজ রাত দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে এখানে এসেছেন। এই যে জনস্রোত এই শক্তি ভোটের দিন কাজে লাগাতে হবে। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের বাক্স পাহাড়া দিতে হবে। জনগণ একদিন কষ্ট করলে বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে দেশের জন্য যে পরিকল্পনা করেছে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার ড্যামি ও নিশি রাতের নির্বাচন করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার যে প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তাতে একটি দলের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তারা নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব দূরীকরণে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু পড়াশোনা নয়, বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া ইমাম, খতিব ও মাদরাসার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও হালাল উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
কৃষি খাতে উন্নয়নে তারেক রহমান তার বক্তব্যে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কাল খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নদী ও খাল দখল হয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, এ সমস্যা সমাধানে সারা দেশে জলাশয় সংস্কার করা হবে। এছাড়া তিনি ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত মেরামত করবেন বলে আশ্বাস দেন।
আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। শিক্ষিত যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। দেশের মানুষ ও মা-বোনেরা যেন নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পারেন, সেই পরিবেশ আমরা গড়ে তুলবো।
নির্বাচনের দিন করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ফজরের নামাজ শেষে সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। মুসলমানদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের ভাই-বোনেরাও কেন্দ্রে যাবেন। লাইন ধরে ভোট দিয়ে সারাদিন ভোটকেন্দ্র পাহাড়া দেবেন। বাংলাদেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। এ দেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো ঠিকানা নেই। যেমন করে আমরা নিজের ঘর সাজাই, তেমনি বাংলাদেশকেও সাজাতে হবে। এ দেশ একটি ঘর, আর দেশের মানুষ একটি পরিবার।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত দিন