বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ
       
শিরোনাম :
৩৬টি অস্ত্র বাকি, নির্বাচনের আগে উদ্ধার সম্ভব হবে – ডিসি দুর্গাপূজায় নারায়ণগঞ্জে ৭৫০ পুলিশ মোতায়েন বেতন ও কারখানা চালুর দাবিতে ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দাবায় জেলা পর্যায়ে বিবি মরিয়মের নাবা চ্যাম্পিয়ন বড় সরদার বাড়ি ও লোক-কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের অনিয়ম তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি সোনারগাঁওয়ে নৈশপ্রহরীদের হাত-পা বেঁধে এবং মুখে কস্টেপ পেঁচিয়ে পাঁচ দোকানে ডাকাতি সোনারগাঁওয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, তিন যুবককে কুপিয়ে জখম গণতন্ত্র, সুশাসন ও মূল্যবোধের বার্তা : আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস সোনারগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে ধর্ষণ ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৯ সোনারগাঁওয়ে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার

বড় সরদার বাড়ি ও লোক-কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের অনিয়ম তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

Oplus_131074

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি এ দাবি জানান।

মঙ্গলবার কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ আবেদন জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বড় সরদার বাড়ির পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা, বাণিজ্যিক শুটিংসংক্রান্ত নথি প্রকাশ, ফাউন্ডেশনের আর্থিক কার্যক্রমের স্বাধীন নিরীক্ষা এবং প্রকৃত কারুশিল্পীদের অধিকার সুরক্ষাসহ ১২ দফা দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপির অনুলিপি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও সদস্য এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে একই অভিযোগে ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংরক্ষণ কমিটি। পরে ৩১ আগস্ট সোনারগাঁয়ে মানববন্ধনও করা হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়িতে টানা চার দিন বাণিজ্যিক শুটিং করা হয়েছে। এ সময় উচ্চক্ষমতার জেনারেটর, ভারী ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম, ক্যামেরা ক্রেন, ট্রলি ও শক্তিশালী আলোকসজ্জার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
শুটিংয়ের আগে হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছিল কি না, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের লিখিত মতামত নেওয়া হয়েছিল কি না এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছিল কি না। এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে কমিটি।
তাদের আশঙ্কা, জেনারেটরের কম্পন, ভারী সরঞ্জামের চলাচল এবং দীর্ঘ সময় শক্তিশালী আলোর তাপে পুরোনো গাঁথুনি, চুনসুরকি, কাঠ, প্লাস্টার, মেঝে ও অলংকরণে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এ জন্য প্রত্নতত্ত্ববিদ, সংরক্ষণ স্থপতি ও কাঠামো প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল গঠনের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শুটিংয়ের আগের সংরক্ষণ নথি ও আলোকচিত্রের সঙ্গে ভবনটির বর্তমান অবস্থা মিলিয়ে পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকৃত কারুশিল্পীদের বঞ্চিত করে সুবিধাজনক স্থানে অকারুশিল্পীদের দোকান বরাদ্দ এবং দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ফাউন্ডেশনের সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন, নির্মাণ ও মেরামত, শ্রমিক বিল, স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ, কারুশিল্পীদের কাঁচামাল কেনা, সরকারি অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার আবেদন জানানো হয়েছে।
এসব অভিযোগ যাচাইয়ে কার্যাদেশ, টেন্ডার ও কোটেশন, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক হিসাব, শ্রমিক হাজিরা, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড, দোকান বরাদ্দের তালিকা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছে কমিটি।
তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট নথি পরিবর্তন, সরিয়ে ফেলা বা নষ্ট করা ঠেকাতে প্রশাসনিক সুরক্ষারও আবেদন করা হয়েছে। কারুপল্লীতে প্রকৃত কারুশিল্পীদের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, অনেক কারুশিল্পীর দোকান এমন স্থানে রয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা সহজে পৌঁছাতে পারেন না। অন্যদিকে সুবিধাজনক স্থানে অকারুশিল্পীদের দোকান বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রকৃত কারুশিল্পীদের অগ্রাধিকার দেওয়া, কারুশিল্পী পরিচয় যাচাইয়ের স্বচ্ছ পদ্ধতি চালু এবং প্রধান প্রবেশপথ থেকে কারুপল্লীর দিকে সুস্পষ্ট নির্দেশনাচিহ্ন স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।
১২ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনায় বাণিজ্যিক শুটিং ও বড় আয়োজনের আগে হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বাধ্যতামূলক করা, ঐতিহাসিক স্থাপনার বাণিজ্যিক ব্যবহারে পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন, দোকান বরাদ্দের পূর্ণ তথ্য প্রকাশ, তদন্তে দায় পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং তদন্ত কমিশন ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ।
কমিটির আহ্বায়ক শাহেদ কায়েস বলেন, তদন্তের আগে কোনো অভিযোগকে আমরা চুড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করছি না। স্বাধীন তদন্ত ও বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং বড় সরদার বাড়িসহ সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক সম্পদ ও প্রকৃত কারুশিল্পীদের স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.
© All rights reserved © Sonargaonnews 2022
Design & Developed BY N Host BD