গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা বা নির্বাচনরে মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচণের পক্রিয়া নয়। এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার,বাকস্বাধীনতা, সুশাসন ও বৈষম্য বিরোধী সমতার নিশ্চয়তা দেওয়ারও সার্বজনীন দর্শণ। বিশ্বজুড়ে মানুষরে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং গণতান্ত্রিক আর্দশকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’।
২০০৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মূল উদ্দশ্যে ছিল বিশ্বের প্রতিটি দেশে গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়।
কেন গণতন্ত্র দিবস গুরুত্বপূর্ণ ?
একটি স্থীতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। এই দিবসটি পালনের পেছনে প্রধান কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো:
মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষাঃ গণতন্ত্র মানুষের বাকস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে নিশ্চিত করে।
সুশাসন ও জবাবদিহিতাঃ একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার জনগণরে কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা আনয়ন করে।
জনগণরে সক্রিয় অংশগ্রহণঃ গণতন্ত্র কেবল সরকারের কাজ নয়; সমাজ গঠনে সাধারণ নাগরিক, যুবসমাজ ও সুশীল সমাজের সমান অংশগ্রহণরে বার্তা দেয় এই দিবস।
বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব একবিংশ শতাব্দিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র বিভিন্ন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুিখ, এর মধ্যে ভুয়া তথ্য , নাগরিক অধিকারেরর সংকোচন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা অন্যতম। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্র কোনো স্থির ধারণা নয়; এটি একটি চলমান চর্চা। একটি নিরাপদ, সাম্যভিত্তিক ও জবাবদিহিতামূলক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আপনার মতামত দিন