নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দেশীয় মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রায় ২৫০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুর ও মেঘনা নদীতে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে বদ্ধ জলাশয়, প্লাবনভূমি ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটি আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির আওতায় কাইকারটেক নবাব হাবিব উল্লাহ উচ্চবিদ্যালয়, উলুকান্দী মাদ্রাসা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও উপজেলা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পুকুরেও পোনা অবমুক্ত করা হয়।
কর্মসূচিতে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক, সমবায় কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সোনারগাঁও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানো এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যেই প্রতিবছর সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন জলাশয় ও নদ-নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, নদী ও জলাশয়ের ওপর নির্ভরশীল জনগণকেও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার এবং মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন বন্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নদী-নালা, খাল-বিল ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয়ভাবে মৎস্য উৎপাদন বাড়বে। এ জন্য নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি মা মাছ ও ছোট পোনা মাছ নিধন বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
আপনার মতামত দিন