নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এশিয়ান হাইওয়েতে সড়ক সংস্কারকাজ চলাকালে সৃষ্ট যানজটের সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় সাত সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুট হওয়া প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৮৭৫ কেজি রিসাইকেল প্লাস্টিকের দানা ও ডাকাতি হওয়া একটি পিকআপভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সোনারগাঁও থানা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে পাঁচ টার দিকে উপজেলার ললাটি এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ের অলিম্পিক বিস্কুট কারখানার পশ্চিম পাশে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী খলিলুর রহমান জানান, তালতলা বাজারের জুগিরপাড়া এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের ৭৫ বস্তা রিসাইকেল প্লাস্টিকের দানা একটি মিনি পিকআপভ্যানে করে কুমিল্লায় নেওয়া হচ্ছিল। প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে মোট ১ হাজার ৮৭৫ কেজি প্লাস্টিকের দানার আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
পথে ললাটি এলাকায় পৌছালে ৮/১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সড়ক সংস্কারকাজের ভান করে গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দেয়। গাড়ি থামানোর পর ডাকাতেরা রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপ নিয়ে পিকআপভ্যানে উঠে চালককে মারধর করে। পরে তারা পিকআপভ্যান, মালামাল, নগদ টাকা ও গাড়ির কাগজপত্র লুট করে চালককে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়।
ঘটনার পর সোনারগাঁও থানায় মামলা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ারের নির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দীন এবং তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল হকের নেতৃত্বে গত রোববার রাতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ললাটি এলাকা থেকে রাসেলসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার সাহারা গার্ডেন এলাকার একটি পরিত্যক্ত কারখানায় অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া প্লাস্টিকের দানা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি এশিয়ান হাইওয়ের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পিকআপভ্যানটিও উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, কামরুল হাসান (৩৫), আকরাম (২৫), রফিকুল ইসলাম (৪১), সুমন (৩৫), পারভেজ (২৫), সোহাগ (৩২) ও রাসেল (৩৫)।
তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল হক বলেন, এশিয়ান হাইওয়ের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা খোড়াখুড়ি ও সংস্কারকাজ চলায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি করে আসছিল।
সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, রাসেলের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ান হাইওয়েতে ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক ও মারামারিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মহাসড়কে অপরাধ কিছুটা কমবে বলে আশা করছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত দিন