বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক অটোরিকশা চালক হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী ও স্বজনরা। বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি এলাকায় এ সড়ক অবরোধ করেন। মাত্র ১০ টাকা চাঁদা দেওয়া-না দেওয়ার দ্বন্দ্বে অটো রিকসা চালক মমিনুল মিয়া (৪০) কে পিটিয়ে বেধড়ক মারধর ও মাথায় আঘাত করে পরিবহন চাঁদাবাজরা। আহত অটোচালক মমিনুল বুধবার ভোরে ঢাকার নিউরোসাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে গত রোববার বিকেলে দড়িকান্দি এলাকায় শাহিন মিয়া নামের এক যুবক তার লোকজনদের নিয়ে লাইনের চাঁদা না দেয়ায় অটোচালক মমিনুল মিয়া এ আঘাত করেন।
এদিকে অটোরিকশা চালক হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধের ফলে চট্টগ্রাম লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া অবরোধকারীরা মহাসড়কের পাশে দড়িকান্দী-বাংলাবাজার সড়কও অবরোধ করে রাখে। সড়কের চলাচলরত যাত্রীরা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।
নিহত মমিনুল মিয়া উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহিন মিয়াসহ তার লোকজন পলাতক রয়েছে।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাস ট্যান্ড এলাকায় অভিযুক্ত শাহিন মিয়া একটি সিন্ডিকেডের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করেন। গত রোববার বিকেলে অটোরিকসা চালক মমিনুল মিয়া তার অটোরিকশা নিয়ে দড়িকান্দি বাস স্ট্যান্ডে যান। পরে শাহিন মিয়া তার কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসময় মমিনুল মিয়া তাকে টাকা দিয়েছেন বলে জানায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। পরে শাহিন মিয়া তার লোকজনদের নিয়ে অটোরিকশা চালক মুমিনুল মিয়াকে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে অটোচালককে মাথায় আঘাত করে। এতে মমিনুল অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকার নিউরোসাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৬ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে সকাল ১০ টার দিকে এ্যাম্বুলেন্সযোগে লাশ নিয়ে আসলে দড়িকান্দি এলাকায় মহাসড়কে লাশের এ্যাম্বুলেন্স রেখে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা। এছাড়াও মমিনুলের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় কয়েকগ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে এ হত্যার প্রতিবাদে ও দোষিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক সংলগ্ন দড়িকান্দি-বাংলাবাজার সড়কও অবরোধ করে রাখেন।
এদিকে এ অররোধের কারনে মহাসড়কে যানচালাচল বন্ধ হয়ে দু’পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে যানজটে আটকাপড়ে যানবাহন শ্রমিক ও যাত্রীরা চরম দুভোর্গে পড়েন। প্রায় আধঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ ছিল।

অবরোধ চলাকালে এলাকাবাসী বলেন, স্থানীয় এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটটি শুধু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিই করে না। তাদের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষও অতিষ্ট। তারা কতোটা নির্দয় ও নির্মম হলে মাত্র ১০ টাকার জন্য একজন নিরিহ অটো রিক্সাচালককে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক বিচারের দাবি করেন। পরে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারী বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলে যানচালাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে মুমিনুল মিয়াকে আহত করার ঘটনায় গত সোমবার রাতে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন। ওই মামলায় শাহিন মিয়াকে আসামি করা হয়।
নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম সোনারগাঁও নিউজকে জানান, তার স্বামী সহজ ও সরল প্রকৃতির মানুষ। তার কাছ থেকে দ্বিতীয় দফায় ১০ টাকা না পেয়ে মারধর করে। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে স্ট্রোক করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তিনি আরো জানান, পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল তার স্বামী। তাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে তার দুই ছেলেকে নিয়ে নিয়ে কিভাবে সংসারের বোঝা বইবেন চিন্তায় রয়েছেন। তিনি এ হত্যাকান্ড জড়িতকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ সোনারগাঁও নিউজকে জানান, বিক্ষোভকারীরা ১৫ মিনিটের মতো মহাসড়কে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশের অনুরোধে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, চাঁদার দাবিতে মারধর করার ঘটনায় মামলা গ্রহন করা হয়েছে। এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামি গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অবরোধকারীরা মহাসড়কে অবস্থানের পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। অবরোধকারীদের বিক্ষোভের সময় যান চলাচল কিছু ধীরগতি ছিল। পরে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
আপনার মতামত দিন