১২৬ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁও জি.আর ইনস্টিটিউশন মডেল স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির এডহক কমিটির সভাপতি হয়েছেন সোনারগাঁওয়ের কৃতি সন্তান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মো. হাফিজ উল্লাহ।
৪ সদস্যের এডহক কমিটির অন্যান্যরা হলেন সদস্য সচিব প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদা ইয়াসমিন, শিক্ষক প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক এখলাছুর রহমান ও অভিভাবক সদস্য মনির হোসেন মোল্লা।
অধ্যাপক মো. হাফিজ উল্লাহ এর আগেও সোনারগাঁও জি. আর ইনস্টিটিউশনে গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি সোনারগাঁও জি. আর ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি, নটোরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয থেকে ১৯৭২ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমএ পাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের শামসুজ্জোহা হলের ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন।
তিনি সোনারগাঁও পাইলট গার্লস হাই স্কুল প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং ১০ বছর ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সোনারগাঁও জি.আর ইনস্টিটিউশনের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং সমস্যা সংকুল প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা অবকাঠামগত উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলায় অবদান রাখেন। তিনি সোনারগাঁও ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক হাফিজুল্লাহ রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এর সাথে যুক্ত হন ১৯৮৫ সনে এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অবদান রাখেন। তিনি ১৯৯৮ সালে রোটারি গ্রুপ স্ট্যাডি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের লিডার হিসেবে মিশিগান ইউএসএ এবং অন্টারিও কানাডায় পাঁচ সপ্তাহ রোটারির বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি বাংলাদেশ রোটারির গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০০৮-৯ সালে গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন। সারাদেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিশুদ্ধ পানীয় জল ও অভুক্তদের খাদ্য সহযোগিতায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৬ বছর রোটারি ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন জেলায় বিশুদ্ধ পানি বিশেষত বিভিন্ন স্কুল কলেজে ছাত্রীদের জন্য আলাদা বাথরুম ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করেন। করোনার সময় বিভিন্ন হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় অবদান রাখেন।
তিনি রোটারি গভর্নর হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে স্বস্ত্রীক আমেরিকার সিন্ডিয়াগোতে সপ্তাহ ব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ব্যাংকক রোটারি ইনস্টিটিউটের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, বালি রোটারি ইনস্টিটিউটের কান্ট্রি চেয়ারম্যান ছিলেন এছাড়াও মালয়েশিয়া তাইওয়ান হংকং সিঙ্গাপুর ফিলিপিনস নেপাল ও ভারতে রোটারির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ইন্ডিয়ানাপলিস ইউএসএ, শিওল কোরিয়া ব্যাংকক থাইল্যান্ড ও তাইপে তাই ওয়ান এবং বার্মিংহাম ইংল্যান্ডে রোটারি কনভেনশনে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মজীবনে তিনি কর্ণফুলী ইন্সুরেন্স কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও মুখ্য নির্বাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কর্ণফুলী ইন্সুরেন্স পি এল সি ও মেঘনা লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি এর স্বাধীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জৈষ্ঠ্য ইন্সুরেন্স নির্বাহীদের সংগঠন এসোসিয়েশন অফ ইন্সুরেন্স
এক্সিকিউটিভ এর সভাপতি হিসেবে বিগত ১২ বছর দায়িত্ব পালন করছেন।
অধ্যাপক হাফিজুল্লাহ রোটারি পার্লামেন্ট সি ও এল এর সদস্য হিসেবে আমেরিকার শিকাগো শহরে পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ করেন এবং রোটারি আইন কানুনের উপর বলিষ্ঠ বক্তব্য রাখেন যাহা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে মেলে ধরতে সাহায্য করেছে।
আপনার মতামত দিন