সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ
       
শিরোনাম :
সোনারগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে ধর্ষণ ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৯ সোনারগাঁওয়ে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য সম্পর্কে আগেই শুনেছি- এসপি হাবিবুর রহমান নারায়ণগঞ্জ-৪ নিয়ে জনগণের চাওয়া-পাওয়াকেই অগ্রাধিকার দেব -মাধবী মার্মা সোনারগাঁওয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভূয়া প্রত্যায়ন দেওয়ার অভিযোগ সোনারগাঁওয়ে মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২৫০ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত সোনারগাঁওয়ে কিশোরী ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত গ্রেফতার সোনারগাঁওয়ে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ২৪ জন গ্রেপ্তার সোনারগাঁওয়ে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১০ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সোনারগাঁওয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভূয়া প্রত্যায়ন দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ভূয়া প্রত্যায়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামের মৃত তোতা মিয়াকে ফজলুল করিম সরকার উল্লেখ করে তিনি প্রত্যায়ন দিয়েছেন।
এঘটনায় সোমবার দুপুরে তোতা মিয়ার ছেলে মো. মনির হোসেন সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে তোতা মিয়ার ছেলে মো. মনির হোসেন জানান, তাদের সকল প্রকার কাগজ পত্রে তার বাবার নাম তোতা মিয়া উল্লেখ রয়েছে। তার বাবার মৃত্যুর পর আতাউর রহমান তার স্বাক্ষরিত মৃত্যু সনদে তোতা মিয়ার উল্লেখ করে তাকে সনদ দিয়েছেন। এছাড়াও ওয়ারিশ সনদেরও তার বাবার নাম তোতা মিয়া উল্লেখ করে সনদ প্রদান করেন। সম্প্রতি পরমেশ্বরদী মৌজায় ১৫ শতাংশ তাদের জমি নিয়ে আব্দুল হালিম গংদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। আরএস রেকর্ড মূলে তার বাবা সম্পত্তির মালিক হলেও একটি ভূয়া দলিলের মাধ্যমে এনালগ পদ্ধতিতে ওই জমি নামজারি করে নেন হালিম গং। ওই দলিলে দাতা হিসেবে ফজলুল করিম সরকারকে দেখানো হয়েছে। এ দলিলে ফজলুল করিম নাম থাকায় তোতা মিয়া ও ফজলুল করিমকে একই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি প্রত্যায়ন দেন। প্রত্যায়নে ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য নাছিমা এর সনাক্ত মতে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হলে তিন নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আবুল কালামের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিও এক ব্যক্তি নয় বলে প্রতিবেদন দিয়েছেন।
মো.মনির হোসেন দাবি করেন, নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার খালাতো ভাই বারদী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হক ও একই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফ সরকারের প্ররোচনায় এ সনদ দিয়েছেন।

তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন,  ভূয়া দলিলে নামজারি করে নেওয়ার পর তিনি এসিল্যান্ড অফিসে একটি মিসকেস মোকদ্দমা দায়ের করেন তিনি। রেকর্ডীয় সকল প্রকার কাগজপত্রের প্রমাণ থাকার পরও রায়কে ভিন্নখানে প্রভাহিত করার জন্য তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকার নামের ব্যক্তিকের একই ব্যক্তি উল্লেখ করে সনদ প্রদান করেন চেয়ারম্যান। তার বাবার জমির পর্চা, জাতীয় পরিচয় পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের তোতা মিয়ার রয়েছেন।

বারদী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। তবে ক্ষুদে বার্তা দিলেও সাড়া দেননি।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের তিন নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আবুল কালাম জানান,ওই এলাকায় তদন্ত করতে গেলে বেশির ভাগ মানুষ একই ব্যক্তি নয় বলে জানিয়েছেন। তবে তদন্ত শেষে আমাদের প্রতিবেদনের একই ব্যক্তি না বলে প্রতিবেদন দাখিল করবো।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য নাছিমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এমন কোন সনদের সনাক্ত করেননি। চেয়ারম্যান এমনিতেই লিখে দিয়েছেন।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, একটি দলিলের মূলে তোতা মিয়াকে ফজলুল করিম একই ব্যক্তি উল্লেখ করে সনদ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যায়নটি সঠিক হয়নি বিষয়টি জানতে পেরে সনদটি স্থগিত করা হয়েছে। পুনরায় তদন্ত চলছে। তবে শ্রমিকলীগ ও যুবলীগ নেতা আমার পাশ্ববর্তী বাড়ির আত্মীয় আমার কিছু হয়না।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.
© All rights reserved © Sonargaonnews 2022
Design & Developed BY N Host BD