ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আষাঢ়িয়াচর ২ নং সেতুর ঢাকামুখী লেনে মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যেন মরণ ফাঁদে তৈরি হয়েছে । প্রতিদিন এ সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। সেতুর ডেক স্ল্যাবের ওই গর্ত দিয়ে নিচের পানি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুর এমন অবস্থা যেন দেখার কেউ নেই । দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এ সড়কের পথচারী ও স্থানীয়রা।
এদিকে শুধু সেতুর অবস্থা নয়, এ সেতুর দু’পাশে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিনত হয়। এতে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় সেতুর রাস্তা দিয়ে ।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে সেতুর মাঝামাঝি অংশের ডেক স্ল্যাব ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সেতু পার হতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছে, ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পনও অনুভূত হয়। রাতের অন্ধকার বা বৃষ্টির সময় গর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে ঝুঁকি কমাতে এখনো দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে শুধু সেতুর মূল অংশই নয়, পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিনত হয়। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আগাছায় ঢেকে পথটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপরে স্ল্যাব না থাকায় পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতুর রাস্তা দিয়ে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ কোম্পানি, বসুন্ধরা কোম্পানি, আল-মোস্তফা কোম্পানি, টাইগার পাওয়ার হাউজসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন হেটে চলাচল করছেন। সামান্য অসাবধানতায় দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তাঁরা।
ট্রাকচালক মহসিন মিয়া সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, আষাঢ়িয়াচর দ্বিতীয় সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সেতুর মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার না করলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় আষাঢ়িয়াচর গ্রামের সুমন আলম বলেন, কয়েক মাস আগেও একই স্থানে গর্ত হওয়ার পর নামমাত্র সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কাজটি টেকসই না হওয়ায় আবারও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে সংস্কার করা হলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলার পিরোজপুরের রতনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন মধু সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, তিনি প্রতিদিন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায় এ সড়ক দিয়ে । আষারিয়ারচর ২য় সেতুর এ বেহাল অবস্থা মাঝখানে মরণ ফাদ যেন দেখার কেউ নেই। সেতুর সাইডে মানুষ যাতায়াত এর রাস্তার স্লাব কি হইছে তাও কর্তৃপক্ষ দেখে না। সেখানে এখন ঘাস হয়ে গেছে । এই রাস্তাটি দিয়ে সাধারন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো ঝুকি নিয়ে চলাফেরা করে। একটু হোচট খেলেই গাড়ির তলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু ও পথচারীদের চলাচলের অংশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, ওয়াকওয়ে নিরাপদ করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, মহাসড়কের আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর গর্তের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। প্রাথমিকভাবে গর্তের ওপর স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। পরে নিচ দিয়ে শাটারিং করে স্থায়ীভাবে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে। বৃষ্টির কারণে রাস্তার কাজ শেষ করা যায়নি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে।
আপনার মতামত দিন